
সিটিজেন ডেস্ক


ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন। সংঘাত শুরুর পর এটিই তার জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ।
আজ (১ এপ্রিল ) রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ক্রমাগত জনপ্রিয়তা হ্রাস ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই ভাষণ আসছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে হোয়াইট হাউস ভাষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
এই ভাষণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চেয়েছে। যদিও তিনি কিছু শর্ত আরোপ করেছেন, যা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর এক মাসের বেশি সময় পর বাংলাদেশ সময় ভোরে এই ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাতের শুরুতে দ্রুত ভাষণ দেওয়ার যে প্রচলন, তার তুলনায় এই বিলম্বকে ভিন্নধর্মী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, আর অসন্তুষ্টির হার ৫০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এ ছাড়া ইরান অভিযানের প্রতিও জনসমর্থন কমে এসেছে। অধিকাংশ ভোটার এই হামলার বিরোধিতা করছেন, বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বিরোধিতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানায়, কথিত পাঁচ দফা পরিকল্পনাকে ‘গণমাধ্যমের অনুমান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আরাঘচি।
তিনি আরও বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়া এবং ইরানকে পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত’ সংঘাত অব্যাহত থাকবে।
তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পরিবর্তে কঠোর অবস্থানেই রয়েছে তেহরান।

লেবানন জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে দেশটির ওপর ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৯৩৫ জন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই হামলায় বেসামরিক মানুষের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এতে সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
উপকূলীয় শহর আল-মানসুরিতে বিমান হামলায় একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুজন নিহত হয়েছেন। এই উপকূলীয় মহাসড়কে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আগের দিন কাছাকাছি একটি যানবাহন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এদিকে বিয়াদা শহরের আশপাশে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ চলছে। জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান নিয়েছে এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষ ড্রোন ও ভারী কামান ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

বিদেশি সামরিক ঘাঁটিকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি ক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে নিরাপত্তা কেনা যায় না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেন। জারিফের ভাষায়, এসব দেশে স্থাপিত বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলো কার্যত ‘যুদ্ধের মঞ্চে’ পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই ক্ষমতা ছাড়বেন, কিন্তু ইরান দীর্ঘমেয়াদে থাকবে। এ প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানান তিনি।
জারিফের মতে, টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং তা কোনোভাবেই প্রতিপক্ষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি তারা ‘দৃঢ়ভাবে ও দাপটের সঙ্গে’ নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলে, ‘এ ধরনের আচরণের কারণে এই জাতির শত্রুদের জন্য প্রণালী উন্মুক্ত করা হবে না।’
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ হলে তিনি সে প্রস্তাব বিবেচনা করবেন।
তবে আইআরজিসির এই প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী নিয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান।

ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে—এমন দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যখন উন্মুক্ত, বাধামুক্ত ও পরিষ্কার থাকবে, তখনই আমরা কথিত যুদ্ধবিরতির অনুরোধ বিবেচনা করব।’
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ততদিন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া’ হবে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্রদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সামরিক সহায়তা চাইছেন। হরমুজ প্রণালীতে নৌবাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে ইউরোপের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের মতো বিষয়ে তিনি জোটের সদস্যদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন। তবে বাস্তবে সেই সাড়া তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অনেক দেশই সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ–এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি সব সময়ই জানতাম তারা একটা কাগুজে বাঘ।”
একই সঙ্গে তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন বলেও জানান।
একই ধরনের সুর শোনা গেছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর বক্তব্যেও।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, যদি ট্রান্সআটলান্টিক জোটের উদ্দেশ্য শুধু ইউরোপকে রক্ষা করা হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমানভাবে কাজ না করে, তাহলে সেটি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না।
রুবিও আরও বলেন, এই বাস্তবতায় জোটের কাঠামো ও ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ন্যাটো দেশগুলোর এই সতর্ক অবস্থান জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে সামনে এনে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ন্যাটো প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের কনিষ্ঠ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যালিস রুফো।
প্যারিসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যাটোর মূল কাজ ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযান চালানো এই জোটের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বলেও আখ্যা দেন।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে তারা ব্যাপক আকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।
সংস্থাটির দাবি, এই হামলায় ১০০টির বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণকারী ড্রোনের পাশাপাশি অন্তত ২০০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ যৌথভাবে এই হামলা পরিচালনা করেছে। এতে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটি এবং কুয়েতের আল-আদিরি এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিটে হামলা চালানো হয়। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হিজবুল্লাহর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেমের কাছে একটি বার্তায় এ কথা জানান।
ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ–তে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, হিজবুল্লাহর নেতারা ‘ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় শত্রুদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সততা, দৃঢ়তা ও ধৈর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, চলমান পরিস্থিতিতে এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ইরানি নাগরিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুবাইয়ের এয়ারলাইন্সগুলো।
এমিরাটস জানিয়েছে, ইরানি নাগরিকরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ বা ট্রানজিট করতে পারবেন না।
একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছে ফ্লাইদুবাইও। তবে তারা জানিয়েছে, যেসব ইরানি নাগরিকের আমিরাতের ‘গোল্ডেন ভিসা’ রয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন এবং দেশটিতে প্রবেশ ও ট্রানজিট করতে পারবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রায় ২০টি স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এর আগে বেনি ব্রাক এলাকায় আহত হওয়া ১০ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের অবস্থা এখন সংকটাপন্ন বলে জানায় ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
গোষ্ঠীটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েল তাদের শর্ত না মানা পর্যন্ত এসব হামলা বন্ধ হবে না। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়া।
হুথি নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য তাদের আরও কিছু ধাপ ও পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ বাণিজ্য এই প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের কুদস ফোর্সের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ছিলেন কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের প্রকৌশল বিভাগের প্রধান। তিনি ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মাহাল্লাতে নিহত হন। তবে নিহত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা দুই দশক ধরে লেবানন ও সিরিয়ায় ‘ভূগর্ভস্থ প্রকল্প’ পরিচালনা করছিলেন। এর মধ্যে হিজবুল্লাহর জন্য অবকাঠামো তৈরি এবং অস্ত্র মজুত ব্যবস্থাপনার কাজও ছিল বলে জানানো হয়।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল একাধিকবার কুদস ফোর্সের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে বৈরুতের একটি হোটেলেও একই ধরনের হামলা চালানো হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের ‘সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযান ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে ‘যৌথভাবে’ পরিচালিত হয়েছে।
হুথি-সমর্থিত আল-মাসিরাহ টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে চালানো ইসরায়েলি হামলা ও কর্মকাণ্ড তাদের আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।
বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এসব হামলা চলতে থাকলে তারা আরও তীব্র সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
এর আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ইসরায়েলের নতুন ‘মৃত্যুদণ্ড আইন’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই আইনে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অপরাধ করলে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসির শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু একই অপরাধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু সরকারের এই আইন বৈষম্যমূলক এবং বর্ণবাদী নীতির উদাহরণ।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এমন নীতি অনুসরণকারী একটি সরকারকে আমরা কেন বিলিয়ন ডলারের ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দিচ্ছি?’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলে অতিরিক্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হলেও দেশটির উচিত দ্রুত এ যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে রবিবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত ১ হাজার ২১ জন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৬ শতাংশই দ্রুত সংঘাত অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ, আর বাকি ৬ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ঘোর বিরোধী দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিক। বিপরীতে মাত্র ৩৫ শতাংশ নাগরিক এ সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক শিবির রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও বড় একটি অংশ (৪০ শতাংশ) মনে করেন লক্ষ্য অর্জন না হলেও দ্রুত সংঘাত শেষ করা প্রয়োজন।
তবে দলটির ৫৭ শতাংশ কট্টর সমর্থক এখনো দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধে লিপ্ত থেকে লক্ষ্য অর্জনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। সামগ্রিকভাবে জরিপটি বর্তমান প্রশাসনের ইরান নীতির ওপর মার্কিন জনমতের একটি স্পষ্ট অনাস্থা ও যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে ফুটিয়ে তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এক বড় ধরনের অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করছে এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন যে কোনো মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের জন্য প্রস্তুত এবং এ লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দেন । তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন আলোচনার নামে কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ বা ভুয়া আলোচনার কৌশল সহ্য করবে না।
ট্রাম্পের নীতি অনুযায়ী, কেবল অর্থবহ এবং কার্যকর আলোচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে তিনি রাজি হননি, তবে শন হ্যানিটিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে রুবিও বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মন্তব্য করেন, আমরা এখন শেষ রেখা দেখতে পাচ্ছি।
ইরান ইস্যুর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। রুবিও বলেন, দীর্ঘকাল ধরে যে জোটটি মার্কিন স্বার্থে কাজ করে এসেছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখনও তার উদ্দেশ্য যথাযথভাবে পূরণ করছে কি না, তা ওয়াশিংটনকে হয়তো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় বিমান হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার জেবচিত ও কাফরা শহরে এ হামলা চালানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) তথ্যমতে, জেবচিত শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে চালানো হামলায় ওই দম্পতি প্রাণ হারান। একই সময়ে নাবাতিয়ের পার্শ্ববর্তী কাফরা শহরে চালানো পৃথক এক বিমান হামলায় আরও ২ জন নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৮ জন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো লক্ষ্য করেই তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল লেবাননের অভ্যন্তরে বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর কথা বলা হলেও এসব হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সীমান্তের বাইরে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা দুর্বল করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম একটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে পাহাড়ি এলাকায় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা