
সিটিজেন ডেস্ক


ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা কুদস ফোর্সের অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোপন ইউনিটের এক নেতাকে হত্যা করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী আইআরজিসির গোপন ইউনিটের নেতা আসগার বাকেরিকে হত্যা করেছে।
ইরান এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, আইআরজিসির গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা (আইএইএ)-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছাকাছি যে কোনো হামলা ‘পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ সৃষ্টি করছে এবং তা অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
গ্রোসি এক্স-এ পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘কার্যরত প্ল্যান্টের কাছাকাছি হামলা একটি মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যা ইরানসহ সেখানকার মানুষ এবং পরিবেশের ওপর গভীর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি বজ্রপাত কেন্দ্রের সীমানা থেকে মাত্র ৭৫ মিটার (২৪৬ ফুট) দূরে আঘাত হেয়েছিল, যা এই অঞ্চলের পারমাণবিক নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও প্রমাণ করছে।

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাফার রুম্মানে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে, সিদ্দিকিন শহরে ইসরায়েলের পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। এই সময় বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা আগের দিনের হামলায় আহতদের উদ্ধার করছিলেন।
এছাড়া, বিন্ট জেবেইল জেলায় অবস্থিত হারিস শহরে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।
নাবাতিয়েহ জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলার ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়াও, আহতদের উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জরুরি পরিষেবা দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছে।
এনএনএ-র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের হামলা বাড়ছে, যা স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।

ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো ফোনে আলাপ করেছেন।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাঝে এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আলাপের সময় আরাঘচি হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেছেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যাকে স্বাভাবিকীকরণের শামিল, এবং কার্যকর হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী চূড়ান্ত ও ব্যাপক জবাব দেবে।’

ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের অন্তত ২৮টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তি মাঝারি মাত্রার আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের জরুরি সেবাবিভাগ জানিয়েছে, ইরান গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। রামাত গান, বনে ব্রাক এবং গিভাতায়িমে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তি চল্লিশের কোঠায় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।
সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের আসালুয়েহতে অবস্থিত সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল, ওই স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে একটি হামলা হয়েছে। এবার ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইসরায়েল ‘ইরানের অন্যতম বৃহৎ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, এই স্থাপনাটি দেশটির মোট পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশের জন্য দায়ী।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং স্পষ্ট করেছে—চাপ ও হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ‘সর্বশক্তি’ প্রয়োগ করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলেন।
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবটি সম্পর্কে বাঘাই বলেন, এটি ‘অযৌক্তিক’ এবং ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, একদিকে আলোচনা প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক হুমকি অব্যাহত রাখা হচ্ছে—এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো অর্থবহ সংলাপ সম্ভব নয়।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধার সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে, হাইফা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া চারজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ৩৫ বছর বয়সী নারী, আশির কোঠায় থাকা একজন পুরুষ ও একজন নারী এবং চল্লিশোর্ধ্ব একজন পুরুষ রয়েছেন।
হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তৎপরতা চালান। হতাহতদের সন্ধানে কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে তার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ নোয়েল ব্যারোর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এ কথা জানান।
আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হুমকি ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যাকে স্বাভাবিক করে তোলার’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার মতে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে, চলমান সংকট সমাধানে কূটনৈতিক পথকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ইয়াসমিন আনসারি ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক কোটি মানুষের শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে কেন হামলা চালানো হচ্ছে?’ তার মতে, এ ধরনের হামলা শুধু অবকাঠামো নয়, জ্ঞানচর্চা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও আঘাত হানে।
আনসারি আরও বলেন, শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির মতোই। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা বহু প্রকৌশলী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রযুক্তিখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তার ভাষায়, ‘শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করেছে, যারা পরে সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করেছেন এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।’
উল্লেখ্য, সিলিকন ভ্যালি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি কেন্দ্র, যেখানে বহু শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব প্রস্তুত করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পাকিস্তান তৈরি করে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আদান-প্রদান করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-এর বরাতে বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মনে করছে তেহরান।
তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে হামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বাঘাই আরও বলেন, ইরান নিজেদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই এই প্রস্তাবের জবাব তৈরি করছে। তার ভাষায়, ‘আমরা শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা কোনো রেডলাইন অতিক্রম করিনি এবং আমাদের অবস্থান এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।’