
সিটিজেন ডেস্ক


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্যর অধিকাংশই অর্জন করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনা করেছেন যুদ্ধ ‘আরও কিছু সময়’ চালিয়ে যেতে, যেন ইরানের বর্তমান সরকারকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করা যায়।
মার্কিন রক্ষণশীল পডকাস্টার বেনি জনসনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আরও কিছু সময় ধরে এটি (যুদ্ধ) চালিয়ে যেতে চান যাতে ইরানে আবার হামলা চালানোর প্রয়োজন না হয়। ইরানের সরকারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দুর্বল করা প্রয়োজন, এবং এটাই উদ্দেশ্য।’
ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। শনিবার চালানো এ হামলায় আরও ৩৭টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান মোট ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর দুই সদস্য, বাহিনীতে নিযুক্ত একজন মরক্কোর বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭৮ জন।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলা ১২০টি ক্লাস্টার বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এসব বোমার অবস্থান শনাক্ত করে পরবর্তীতে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের উপপ্রধানের বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশে ক্লাস্টার বোমাগুলো পাওয়া যায়।
ফার্স প্রদেশের কাফরি গ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় এসব বোমা হামলার সময় ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরে ওই এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে বোমাগুলো শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ইসরায়েলের দাবি, নিহতদের মধ্যে একজন হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
লেবাননের সামরিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ আল মানার টেলিভিশনের সাংবাদিক আলী শোয়াইব এবং ইরান-সমর্থিত আল মায়াদিন চ্যানেলের সাংবাদিক ফাতিমা ফাতুনি। একই হামলায় ফাতুনির ভাই, যিনি চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন, তিনিও নিহত হন।
আল মায়াদিন ও আল মানার তাদের সাংবাদিকদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আল মানারের যুদ্ধবিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন আলী শোয়াইব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শোয়াইবকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, তিনি হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্য ছিলেন।
লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল হামলা জোরদার করেছে। তাদের ভাষ্য, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করতে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। রবিবার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের এই বৈঠকে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানেও ভূমিকা রাখছে দেশটি। এই উদ্যোগে তুরস্ক ও মিসরসহ কয়েকটি দেশও যুক্ত রয়েছে বলে ইসলামাবাদ জানিয়েছে।
এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইসহাক দার জানান, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘গভীর আলোচনা’ করবেন, যেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের উপায় নিয়েও মতবিনিময় হবে।
এদিকে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি এক্স পোস্টের স্ক্রিনশট ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন। ওই পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি

তেহরানের অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক অঞ্চল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করা হলে তেহরান ‘কঠোরভাবে’ জবাব দেবে।
একইসঙ্গে তিনি এ অঞ্চলের দেশগুলোকে উদ্দেশ করে ইরানের কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তার দেওয়া বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন। ওই বার্তায় বলা হয়, আপনারা যদি উন্নয়ন ও নিরাপত্তা চান, তবে আমাদের শত্রুদের আপনার ভূখণ্ড থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতে দেবেন না।

ইরান জোর দিয়ে দাবি করে আসছে, তারা কেবল এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা বারবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, হোটেল, বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকার মতো বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেমন বড় ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে তাদের হামলার ধরনে পরিবর্তন ইসরায়েলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলো ছিল মূলত বিক্ষিপ্ত এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়, যখন একটি হুতি ড্রোন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে –এর একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের ওপর হুতিদের পুনরায় হামলা শুরু হওয়া দেশটির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে, যদিও এটি বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি হুতিরা আবার লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূলের বন্দর ব্যবহার করছে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে, যা এশিয়ার বাজারের উদ্দেশ্যে ইয়েমেন উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজে প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছে। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান যদি কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুতিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য তা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর চার শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির হতাহতের হিসাব সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ২ মার্চ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাতের সূচনা করে হিজবুল্লাহ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে হত্যার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল গোষ্ঠীটি।
রয়টার্সের সূত্রগুলো জানায়, লেবাননে ইসরায়েলের সম্প্রসারিত আকাশ হামলা ও স্থল অভিযানে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর চার শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। যদিও এর আগে সংগঠনটি আলাদাভাবে কিছু যোদ্ধার মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল, কিন্তু মোট হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
২০২৩-২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে হিজবুল্লাহ প্রতিদিন হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। ওই যুদ্ধে গোষ্ঠীটির প্রায় ৫ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছিল।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে সাম্প্রতিক চার সপ্তাহের যুদ্ধে হিজবুল্লাহর অন্তত ৭০০ সদস্য নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এলিট রাদওয়ান বাহিনীর কয়েকশ সদস্যও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২৭ মার্চ) জানায়, ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ শিশু, ৮৩ নারী এবং ৪২ জন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। তবে এদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে একইদিন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাতে লেবাননে অভিযানের সময় তাদের এক সেনা ও এক কমব্যাট কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে সংঘাতে তাদের চার সেনা নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে তেল আবিব।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে টানা চার সপ্তাহ ধরে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে ইরান। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস এই পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল অন্ধকার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাস ধরে চলা এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইরানি নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের মৌলিক অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নেটব্লকস জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহ ধরে ইরানের সাধারণ মানুষ কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তবে এটি চলতি বছরে দেশটিতে প্রথম ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়।

এর আগে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানে দ্বি-স্তরীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর প্রথম স্তরে সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীনদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে দেশটির নিজস্ব ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ ব্যবহার করছেন, যা একটি নিয়ন্ত্রিত অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক।
এই পরিস্থিতি ইরানে তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

রাশিয়ার উন্নত শাহেদ ড্রোন ইরানে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হোয়াইট হাউস বলেছে, এতে তাদের চলমান অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, অন্য কোনো দেশ ইরানকে যা-ই সরবরাহ করুক না কেন, তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া।
মূলত ইরানের তৈরি এই ড্রোনই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছিল মস্কো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এতে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইউরোপীয় সূত্রের ধারণা, আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার আড়ালে ট্রাকে করে এসব ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে। তবে চালানটির পরিমাণ বা সরবরাহের ধরন এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার উন্নত এই ড্রোন ইরানের হাতে পৌঁছালে অঞ্চলটিতে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এপি

ইরানের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ‘আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুই নেতার মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এক ফোনালাপে এই বিষয়টি উঠে আসে। পিএমওর বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য শাহবাজ শরিফের ভূয়সী প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান।
ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করে আলোচনার পথ সুগম করতে ‘আস্থা তৈরি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনা ও মধ্যস্থতা সহজতর করতে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা জরুরি।’ একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ইরানের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাকিস্তান তার গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এর আগে ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সূত্র: ডন