
সিটিজেন ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি করার সুযোগ এখনো আছে। তবে সেটা নির্ভর করছে ইরানের ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে ‘চমৎকার আলোচক, তবে দুর্বল যোদ্ধা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করছি। তারা পরাজিত হয়েছে; তারা ফিরে আসার চেষ্টা করছে না। তাদের এখন একটি চুক্তি করার সুযোগ আছে, কিন্তু সেটা তাদের ওপর নির্ভর করছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছি, তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ঘাঁটি ধ্বংস করছি। আমরা তাদের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছি এবং তাদের ক্ষেপণাত্রের একটি বড় অংশ এবং ৯০ শতাংশ লঞ্চার ধ্বংস করেছি।’

ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। প্রয়োজনে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু করার সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হুতির এক নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সব ধরনের বিকল্পসহ প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান ভালো করছে এবং প্রতিদিন শত্রুকে পরাজিত করছে। যদি এর বিপরীত কিছু ঘটে, আমরা তা বুঝতে পারব।
ওই নেতা জানান, তারা পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উপযুক্ত সময় এলে সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতি গোষ্ঠী যুদ্ধে যুক্ত হলে একটি নতুন ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইয়েমেন উপকূলের বাইরে বাব আল-মান্দেব প্রণালি প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই জলপথ দিয়ে সুয়েজ খালের দিকে জাহাজ চলাচল করে।
হরমুজ প্রণালির পর বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময় এই জলপথে জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে হুতি গোষ্ঠী।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এর নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ‘সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ’।
হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু এই কথা বলেন। তিনি জানান, ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল শক্তিশালী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি এবং সেখানে মাইন পেতে রাখার ক্ষেত্রে তাংসিরির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
নেতানিয়াহু তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান আল জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী ও ২১২ জন শিশু।
উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮০০ এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৬২১টি শিশু রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে আবারও আলোচনায় ফেরার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বেশি দেরি হওয়ার আগে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু হোক।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এসেছে যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে বলেন, বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে ইরানকে। একবার এটি ঘটলে ফেরার কোনো পথ থাকবে না এবং এটি ভালো দেখাবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান সামরিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, সেখান থেকে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র: এএফপি

হরমুজ প্রণালির পর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও অবরোধ জারির হুমকি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফার্স নিউজকে বলেন, যদি শত্রুপক্ষ ইরানের দ্বীপপুঞ্চ বা ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয়, অথবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে তৎপরতা বৃদ্ধি করে, আমরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন ফ্রন্ট খুলবো।
বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি ইয়েমেনের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালের নৌযানের চলাচল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের বাণিজ্যের জন্য প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র উপকূল থেকে উৎপন্ন তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে ইরানের সমর্থনপ্রাপ্ত হুথি বিদ্রোহীরা। ইতোমধ্যে আইআরজিসি হুথিদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং হুথি নেতারা ইরানকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানের জন্য ড্রোন পাঠানোর কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছে না।
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, গণমাধ্যমে এত বেশি মিথ্যা রটানো হচ্ছে… তাদের প্রতি মনোযোগ দেবেন না।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ রয়েছে। রাশিয়া ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে, তবে প্রকাশ্যে অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়নি। সমালোচকদের মতে, রাশিয়া সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তেহরানকে সহযোগিতা করছে।
এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা করেছে ইরান, বিশেষ করে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে মস্কোর পাশে থাকার বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি অবরোধ কার্যকর রাখার দায়িত্বে থাকা নৌ-কমান্ডার আলিরেজা তাঙসিরি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।
তবে এ বিষয়ে ইরান সরকার, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী কিংবা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। খবরটি সত্য হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের উচ্চপর্যায়ের আরেক কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনা।
আলিরেজা তাঙসিরি ইরানের নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি উচ্চপদে উন্নীত হন এবং হরমুজ প্রণালির তদারকির দায়িত্ব পান। এর আগে একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তিনি বেঁচে যান।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটছে। ব্রিটিশ একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্যমতে, এ সময়ের মধ্যে অন্তত ১২টি বিদেশি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। এতে জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইসরায়েল
ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে, এমনকি কুর্দি অঞ্চলেও মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনায় ‘ব্যাপক’ হামলা চালিয়েছে।
এজন্য মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাগদাদে অবস্থিত দূতাবাস বা এরবিলে কনস্যুলেট জেনারেলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ ইরাকের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি রয়েছে।
আকাশপথ বন্ধ থাকায় স্থলপথে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মাধ্যমে বের হয়ে যাওয়ার জন্য নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, আজ (বৃহস্পতিবার) ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলার ধারাবাহিকতায় এটি পঞ্চম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
আইডিএফ বলছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
সূত্র: আল জাজিরা