
মোসাদ্দেকুর রহমান, সিটিজেন জার্নাল২৪.কম (সিজেটএন২৪.কম) অনলাইন পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি দৈনিক যুগান্তর ও আরটিভির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ ৩২তম দিনে গড়িয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক নানা মাত্রায় আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। ইতোমধ্যে এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রশ্ন—যুদ্ধে কে জয়ী হবে তা নয়, বরং প্রশ্ন হচ্ছে, এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে।

গতকাল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে মেঘ ফুঁড়ে দেখা দেয় ঈদের চাঁদ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর এই একফালি চাঁদ যেনো বাঁধভাঙা আনন্দের দরজা খুলে দেয়।

গতকাল সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে মেঘ ফুঁড়ে দেখা দেয় ঈদের চাঁদ। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর এই একফালি চাঁদ যেনো বাঁধভাঙা আনন্দের দরজা খুলে দেয়।

হরমুজ প্রণালিকে আবারও সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানের নৌযান ধ্বংস করা হচ্ছে, আর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভূপাতিত করা হচ্ছে ড্রোন।

ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে কাতারের একটি জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা আঘাত—এই ঘটনাগুলো দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নীতির কথা যতটা উচ্চারিত হয়, বাস্তবতায় তার প্রতিফলন অনেক সময় ততটা দেখা যায় না। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে পশ্চিমা বিশ্বের সেই দ্বৈত নীতিই যেন আবারও সামনে চলে আসে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পর ইরান এক নতুন অনিশ্চয়তার যুগে প্রবেশ করেছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পরে এই সংঘাতের মূলে তিন দেশের আদর্শিক দ্বন্দ্ব। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াবে না, যা তাদেরকে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি করে। কিন্তু সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প নিজেই মধ্যপ্রাচ্যে আবার সেই একই ভুল করতে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সর্বোচ্চ ছাড়ের কথা বলছেন, যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলছেন। এই অবস্থায় যুদ্ধের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানোকে কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতবছর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজার পুনর্গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা হিসেবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠন করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কি অধরাই থেকে যাবে?

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বিমান হামলা, ও স্থল অভিযানে বাড়ছে প্রাণহানি। বেসামরিক এলাকা, শরণার্থীশিবির ও ত্রাণকেন্দ্রে হামলায় গভীর মানবিক সংকটে উপত্যকাটি।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত হবে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশাল উপস্থিতি একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর মধ্যে গতকাল ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে বলে ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসনে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কিছু অগ্রগতির আভাস মিললেও মূল বিরোধের জায়গাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
