শিরোনাম

বিএনপি সরকারের নীতি পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি সরকারের নীতি পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে: টিআইবি
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি সরকারের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার (৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে টিআইবির অবস্থান তুলে ধরেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

টিআইবি বলছে, সরকার মোটাদাগে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেই পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দূরীকরণে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কাজ করতো।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কিছু অধ্যাদেশ বিল আকারে এগোলেও কিছু অধ্যাদেশ এখনই না এনে আরও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপি মহাসচিব গতকাল বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। দ্বিতীয়ত আইনমন্ত্রী বলেছেন, গুম অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যদি আইনে পরিণত করা হয়, তাহলে গুমের শিকার ও অমানবিকতার শিকার ব্যক্তিরা অন্যায়ের শিকার হবেন। এটাকে তিনি আরও বেশি যুগোপযোগী করার কথা বলেছেন, যাতে করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা তাদের দুজনের বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু আস্থা রাখাটা কঠিন হচ্ছে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি তারা যেটা বলছেন, তারা সেটি কাজে রূপান্তর করার ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন না।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ২ এপ্রিল মোট ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার জন্য সুপারিশ করেছে। যা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতাহীন নয়। এমনকী কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেমন– সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশও এর মধ্যে রয়েছে। সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশটিতে এখনো যে ‘সবচে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি’ রয়েছে, তা মহা হিসাব-নিরীক্ষকের ‘সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বাধীনতার পরিপন্থি’।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুষ্ট। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার যেমন– সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় সরকার। যেখানে বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থে সরকার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকারও নিজের ইচ্ছামতো সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত ৩টি অধ্যাদেশকে রহিত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি একেবারেই বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এই ৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি কোনো টাইমলাইনও ঠিক করেনি বা ভবিষ্যতে করা হবে তার ইঙ্গিতও দেয়নি।

তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও দুদকসহ ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী করে আনার কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই সময়কাল সুনির্দিষ্ট নয়। তৃতীয় ধাপে থাকা পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এনে পাসের কথা বলা হয়েছে যদিও এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।

টিআইবি বলছে, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, যা চরম দুর্বলতার কারণে সম্পূর্ণ বাতিলযোগ্য সেটিতে প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে অধিকতর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিধান সংযুক্ত করে বিল আকারে পাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা হতাশাজনক।

/এফসি/