
সিটিজেন ডেস্ক


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, আমরা এমন একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বব্যাপী নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।’ তিনি বাড়তি খরচের কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষ ইতিমধ্যে জ্বালানি ও খাদ্যের বাড়তি দামের জন্য কষ্ট পাচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ বিরোধ মীমাংসার আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষিত রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি আমার বার্তা পরিষ্কার, যুদ্ধ বন্ধ করার সময় এসেছে। এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ও সৌদি যুবরাজ চলমান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সৌদি আরবের সঙ্গে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই পুতিন ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে এই আলোচনা হলো।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব সামরিক নিরপেক্ষতা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে 'বেশ কয়েকটি' অনুরোধ এসেছিল। তবে ঠিক কতবার এমন আবেদন করা হয়েছে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।
তিনি আরও জানান, অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। দীর্ঘদিনের সামরিক নিরপেক্ষতা নীতি বজায় রাখা অস্ট্রিয়া অবশ্য মার্কিন ফ্লাইটের ওপর কোনো ঢালাও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি, বরং তারা প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে দেখছে। শুধু অস্ট্রিয়াই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
যুদ্ধের অন্যতম সোচ্চার ইউরোপীয় সমালোচক স্পেন গত সোমবার (২৯ মার্চ) ঘোষণা করেছে, সংঘাতে জড়িত মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। একইভাবে, গত সপ্তাহে ইতালি সরকারও সিসিলি দ্বীপে অবস্থিত তাদের একটি সামরিক ঘাঁটি মার্কিন বোমারু বিমানকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের উত্তর-পশ্চিম জাঞ্জান প্রদেশে ‘শত্রু’ চক্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে ৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জাঞ্জানে অবস্থিত ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর একটি নিরাপত্তা ইউনিট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তিরা একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশি শত্রু পক্ষের হয়ে ‘ভাড়াটে সৈন্য’ হিসেবে কাজ করছিল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
সূত্র: আল জাজিরা


ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের বর্তমান অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটজনক'। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত অনুপ্রবেশ এবং সংঘাতের জেরে উদ্ভূত মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করেই তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান যুদ্ধের ফলে লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, এমন এক যুদ্ধের মাসুল তাদের দিতে হচ্ছে যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই।
বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী সালাম দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অবস্থানরত নাগরিকদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ও অভিবাদন জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, রাষ্ট্র এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে থাকবে এবং সেখানে অবস্থানরতদের প্রয়োজনীয় রসদ ও সহযোগিতা পৌঁছে দিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনই এখন লেবানন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের রামিয়া শহরের আকাশে একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি, হামলার মুখে হেলিকপ্টারটি তাৎক্ষণিকভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এর পাশাপাশি গোষ্ঠীটি কাউজাহ গ্রামে একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গাইডেড মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে হিজবুল্লাহ।
অন্যদিকে, উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা বসতি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের রকেট বর্ষণ করা হয়েছে। এ হামলার মধ্য দিয়ে সীমান্তে ২ পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও নতুন মাত্রা পেল। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইরানের রাজধানী তেহরানের অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রে হামলা করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ হামলার ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'পাস্তোর ইনস্টিটিউট অব ইরান' দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনাকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের শতাব্দী পুরোনো স্তম্ভে হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞান, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলার ফলে এর অমূল্য গবেষণা কার্যক্রম ও চিকিৎসা অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবস্থান ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সমন্বিত অভিযানে হিজবুল্লাহর অন্তত ৪০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে বড় আকারের অস্ত্রাগার এবং রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে চলমান স্থল অভিযানে ইসরায়েলি পদাতিক সেনারা হিজবুল্লাহর একটি সশস্ত্র সেলকে শনাক্ত করার পর তাদের 'নির্মূল' করেছে এবং গোষ্ঠীটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছে। আকাশ ও স্থলপথের পাশাপাশি ইসরায়েলি নৌবাহিনীও এ অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি বড় অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে সফল হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, গত এক দিনে জল, স্থল ও আকাশপথের এই ত্রিমুখী আক্রমণে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা