
সিটিজেন ডেস্ক


ইরানের ইসফাহান প্রদেশে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এক রেড ক্রিসেন্ট কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মোবারাকেহ এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এক কর্মী প্রাণ হারান।
তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি বা নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহার পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আঘাতটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হলেও স্থাপনাটি সচল রয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগেও বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশে একাধিকবার প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে মূল রিয়্যাক্টর অক্ষত রয়েছে এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদক যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত কিছু অংশের ছবি পাওয়ার দাবি করেছেন। এসব ছবি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আরও একটি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়ে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিতে একটি মাত্র ইঞ্জিনের ধোঁয়া নির্গমন পথ (এক্সজস্ট) দেখা গেছে। এর ভিত্তিতে তাসনিমের সেনা বিষয়ক ওই প্রতিবেদকের ধারণা, ‘এফ-১৬’ অথবা ‘এফ-৩৫’ হতে পারে। তবে এটি ‘এফ-১৬’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরের আকাশে একাধিক যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায়। সে সময় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের তীব্র গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে বিমানগুলো।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আক্রমণ এড়াতে কিছু বিমান থেকে ‘ফ্লেয়ার’ ছোড়া হয় বলে জানা গেছে। তবে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ভূপাতিত হয়েছে।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড মার্কিনিদের একটি এফ-১৫-ই এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এফ-১৫ ইরানের ভেতর বিধ্বস্ত হলেও এ-১০ বিমানটি ইরানি আকাশসীমা থেকে বের হয়ে পারস্য উপসাগরে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ

ইরান দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইসফাহান প্রদেশে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে জানা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ব্যবহৃত ‘আধুনিক ও উন্নত’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি এমকিউ-১ ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ইরান জানায়, তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। একটি দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে এবং অন্যটি হরমুজ প্রাণালির কাছাকাছি এলাকায়।
তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ৩ মার্চের ওই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং এটি ইসরায়েলের কাজ।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের পর এই বিবৃতিটি আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাটি সৌদি কর্তৃপক্ষের বর্ণনার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমিত আগুন এবং সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে আগুনটি কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলেছিল এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছিল।
তবে আইআরজিসি ওই প্রতিবেদন নাকচ করে জানায়, হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘কোনো সম্পর্কই নেই’। তারা আরও দাবি করে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ‘নিশ্চিতভাবেই জায়নিস্টদের কাজ’।
বিবৃতিতে মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক করে আইআরজিসি বলেছে, অঞ্চলে ‘জায়নিস্ট ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি এবং তথাকথিত ‘আমেরিকা-জায়নিস্ট জোটের’ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে অন্তত সাতটি যুদ্ধবিমান ও সামরিক উড়োজাহাজ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পৃথক দুটি ঘটনায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ই এবং একটি এ-১০ বিমান ভূপাতিত করা হয়। যদিও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংসের তথ্য নিশ্চিত করলেও আরেকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
অন্য ৫টি বিমান যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল তার বিবরণ:
২ মার্চ: কুয়েতের আকাশে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ গোলাগুলির’ একটি ঘটনায় দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে তিনটি এফ-১৫ বিমান ভূপাতিত হয়। এতে থাকা ৬ জন ক্রু সদস্যের সবাই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, এর মধ্য থেকে তিন পাইলট ইরানের ওপর চালানো বিমান হামলায় পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন।
১২ মার্চ: ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ জেট ট্যাংকার বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন বিমান ক্রু নিহত হন। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি শত্রু বা মিত্রপক্ষের গুলিতে ভূপাতিত হয়নি, বরং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে অংশ নেওয়ার সময় অন্য একটি বিমানের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। তারা আরও জানায়, দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছিল।
২৭ মার্চ: সিএনএনের জিওলোকেশন করা ছবিতে দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের এক হামলায় টারম্যাকে থাকা মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি আকাশ সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ বিমান ই-৩ সেন্ট্রি ধ্বংস হয়ে গেছে। সিএনএন জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটিতে এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়। তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি ট্যাঙ্কার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও, গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটিতে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে বিমানটি ইরানের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। এই বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক কথিত সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ‘ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাও রয়েছে। সেখানে বিমান লক্ষ্য করে ছোড়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশটির অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত থাকা একটি স্থাপনায়ও আঘাত হানা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও ইসরায়েলি বাহিনী এসব হামলার বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি। এমনকি তাদের দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করেনি।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই ব্যক্তিরা তেহরানের বিরোধী দল মোজাহেদিন-ই-খালক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে সর্বোচ্চ আদালত তাদের সাজা বহাল রাখার পর ওই দুই ব্যক্তিকে ‘শাস্তিস্বরূপ ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে’।
সূত্র: আল জাজিরা

গতকাল শুক্রবার ইরানে ভূপাতিত করা ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটের একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছে আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার। যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে উদ্ধার অভিযানে একটি ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হয়। এ সময় পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইরানি সেনাবাহিনীর বরাতে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত হানা হয়েছে। পরে সেটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়।
এর আগে ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এফ-১৫ই’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে দেশটির সামরিক বাহিনী। নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। সেটি কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মাঝামাঝি জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’
বিধ্বস্ত এ বিমানের একজন পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে, অন্যজন নিখোঁজ। তার সন্ধানেই ওই বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ভূপাতিত করার দাবি করা দ্বিতীয় বিমান এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমান (হামলার মুখে পড়া যুদ্ধবিমান) একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, তিনি ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের অবস্থানের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনার সঙ্গে ‘একমত নন’।
ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরএআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলোনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্যে ইউরোপের খুব বেশি কিছু পাওয়ার নেই। কিন্তু আমাদের কাজ হলো সর্বোপরি আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। যখন আমরা একমত নই, তখন আমাদের তা বলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এইবার আমরা একমত নই।’
ইউরোপে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সেখানে ইতালির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। মেলোনি জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত ইতালির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সরকার ইতালির জনগণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষায় কাজ করছে।
এর আগে, ইতালি সিসিলিতে থাকা একটি সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি মার্কিন বিমানকে অনুমতি দেয়নি মেলোনি। যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় তারা যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না। তিনি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানান।
তবে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ উপসাগরীয় মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিলেও, চলমান যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সূত্র: সিএনএন

ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারে দেশটিতে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ইরানে প্রবেশ করেন।
এদিকে নিখোঁজ ওই ক্রুকে খুঁজে বের করতে ইরানও পৃথক অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এবার ক্রুকে জীবিত অবস্থায় আটক করে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে একটি ইরানি টেলিভিশন চ্যানেল।
চ্যানেলের এক সংবাদ উপস্থাপক ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সামরিক বাহিনী নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করেছে।’
কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ শত্রুপক্ষের পাইলট বা ক্রুকে জীবিত অবস্থায় ধরে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন, তাহলে তাকে মূল্যবান পুরস্কার প্রদান করা হবে।’
ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশটি একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইরানি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সাধারণ মানুষকে অনুসন্ধান কার্যক্রমে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখামাত্র ‘গুলি করার’ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুরস্কার ঘোষণার পর স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন ওই পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ না করেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বার্তায় জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের বহু মানুষ পাইলটকে খুঁজে বের করতে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন। তবে কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিশ্চিত করতে বলেছে যেন তাকে কোনোভাবেই লাঞ্ছিত করা না হয়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ওই ‘অপরাধী মার্কিন পাইলটকে’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বিলিয়ন তুমান (প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড, ৬৬ হাজার ১০০ ডলার বা প্রায় ৮১ লাখ টাকা) পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে, শুক্রবার ‘এফ-১৫ই’ মডেলের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরান। এ ধরনের যুদ্ধবিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনে একজন ‘ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার’ থাকেন।
সংবাদমাধ্যম এক্সিওস ও সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের দুই পাইলটের একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে অপর পাইলটকে উদ্ধারের জন্য এখনো তল্লাশি অভিযান চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সামরিক বিমান ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাহিনী নিখোঁজ ক্রুর সন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, এনডিটিভি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৩৬৫ জন। হতাহত সৈন্যের এ হিসাব জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানে গতকাল দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন কিনা বা হতাহতের তালিকায় এ ঘটনায় সম্পৃক্ত কেউ আছেন কিনা সেটা স্পষ্ট নয়।
পেন্টাগন জানিয়েছে, আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে ২৪৭ জন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য। এছাড়া ইরান যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর ৬৩ জন ও বিমান বাহিনীর ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বাকি ১৯ জন মেরিন সেনা।
সূত্র: আল জাজিরা
দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের মধ্যেই এবার দেশটির মধ্যাঞ্চলেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, ইরানের হামলায় রোশ হাইয়িন এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লেগেছে। এছাড়া পেতাহ টিকভায় একটি ভবন এবং তেল আবিবের কয়েকটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনি ব্রাক এলাকাতেও জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
চ্যানেল ১২-এর খবরে বলা হয়েছে, গিভাতায়িম এলাকাতেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।
একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ না করে তা নাকচ করে দেয় ইরান।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রত্যাখ্যান চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: আল জাজিরা