
সিটিজেন স্পোর্টস ডেস্ক


মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শেষ ওভারটি করতে আসেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান, হাতে ১ উইকেট। প্রথম বলে রান পাননি শাহিন আফ্রিদি। দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলেছিলেন। তবে রিশাদ বলের নিচে সময়মতো পৌঁছালেও ধরতে পারেননি। তৃতীয় বলে দুই রান নেন শাহিন।
চতুর্থ বলটি ডট দেন রিশাদ। দুই বলে দরকার ১২ রান। টান টান উত্তেজনা।
পঞ্চম বলটি শাহিনের লেগ সাইড দিয়ে উইকেট কিপারের হাতে যায়। বলটি হোয়াইড দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে দেখা গেলো বল ব্যাটে লেগেছিল। তবে আগে ড্রপ হয়ে বল কিপারের হাতে যাওয়ায় উইকেট মেলেনি।
ফলে ১ বলে দরকার হয় ১২ রানের। রিশাদের দরকার ছিল বৈধ ডেলিভারি করা। ইনিংসের শেষ বলে রিশাদ আউট করেন শাহিন আফ্রিদিকে। তাতে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৭৯ রানে।
বাংলাদেশ ম্যাচ জেতে ১১ রানে। এই ম্যাচ জয়ের ফলে সিরিজও নিজেদের করে নেন তাসকিন-তানজিদরা। সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে ওঠা নিশ্চিত করে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বাংলাদেশের এই ম্যাচ জয়ের নায়ক দুজন। ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিম, বল হাতে তাসকিন আহমেদ। তানজিদের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের পুঁজি গড়ে।
এরপর বল হাতে পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন তাসকিন। নিজের প্রথম দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। ইনিংসের প্রথম তিন ওভারে তিন উইকেট হারানো পাকিস্তান সালমান আগার ব্যাটে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে। ৪৮তম ওভারে সালমানকেও (১০৬) ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ তৈরী করেন তাসকিন।
এর আগে ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ভাঙেন একটি বড় জুটি। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। এছাড়া মোস্তাফিজ ৫৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
ম্যাচসেরার স্বীকৃতি উঠেছে তানজিদের হাতেই। সিরিজসেরাও হয়েছেন তিনি।
১১ বছর পর পাকিস্তানকে বিপক্ষে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
১২ বলে দরকার ছিল ২৮ রান। তবে ফিজের ওভারে প্রথম পাঁচ বলের মধ্যে দুটি ছক্কা হাঁকান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওভারটির পঞ্চম বলে ব্যাটসম্যানের মারা বল মোস্তাফিজের হাটুতে আঘাত হানে। মনে হচ্ছিলো তাকে মাঠের বাইরে যেতে হবে। তবে ব্যথানাশক স্প্রে দিয়ে শেষ বলটি করেন মোস্তাফিজ।
শেষ বলে মোস্তাফিজ আউট করেন হারিস রউফকে। পাকিস্তানের ৬ বলে দরকার ১৪ রান।
ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন, ছক্কা মেরেই সেঞ্চুরিতেও পৌঁছান সালমান আগা। তবে সেঞ্চুরির পর সালমানকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ব্যক্তিগত ১০৬ রানে আউট হন সালমান।
দলীয় ২৬১ রানের মাথায় সালমান আউট হওয়ায় জমে উঠেছে ম্যাচ।
শেষ ১২ বলে ২৮ রান দরকার পাকিস্তানের। হাতে আছে ২ উইকেট।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সালমান–আশরাফ জুটি ভাঙলেন তাসকিন আহমেদ। ৪০তম ওভারের তৃতীয় বলে তাসকিনের বলে বোল্ড হন ফাহিম আশরাফ। তাতে সপ্তম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি ভাঙে।
শেষ ৯ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ৭০ রান। হাতে আছে ৩ উইকেট। আশরাফের আউটে পাকিস্তানের টেল এন্ডার এখন ব্যাটিংয়ে। নতুন ব্যাটসম্যান শাহিন আফ্রিদি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন সালমান আগা।

দলকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন সালমান আগা। এরই মধ্যে তিনি পূর্ণ করেছেন ফিফটি। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে রিশাদ হোসেনকে ছক্কা মেরে ৬০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি।
ফাহিম আশরাফকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সালমান।
৩৬ ওভারে আকিস্তানের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮৪ রান।

পাকিস্তানের ষষ্ঠ উইকেট জুটি ভাঙতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ দল। অবশেষে মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে এলো সাফল্য। ফিজ বোল্ড করেন সাদ মাসুদকে। ফেরার আগে সাদ মাসুদ করেন ৪৪ বলে করেন ৩৮ রান। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার।
পাকিস্তানের জয়ের জন্য ১৮ ওভারে দরকার আরও ১২৮ রান। হাতে আছে ৪ উইকেট।

ষষ্ঠ উইকেটে বেশ দ্রুত রান করছেন সালমান আগা ও সাদ মাসুদ। তাদের জুটিতে পঞ্চাশ এসেছে ৫৩ বলে। ৭০ ছোঁয়া এ জুটি ভাঙার জন্য বেশ মরিয়ে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলারদের ব্যবহার করছেন তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন এখনও ছন্দ খুঁজে না পাওয়ায় অনিয়মিত স্পিনারদের কাউকে হয়তো আক্রমণে আনতে পারেন তিনি।
৩০ ওভার শেষে পাকিস্তান করেছে ৫ উইকেটে ১৫২ রান। জয়ের জন্য শেষ ২০ ওভারে তাদের দরকার ১৩৯ রান।
২১তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। ষষ্ঠ উইকেটে সালমান ও সাদ মাসুদের জুটি দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
২৪ ওভার শেষে পাকিস্তান করেছে ৫ উইকেটে ১২০ রান। জয়ের জন্য ২৬ ওভারে আরও ১৭১ রান লাগবে পাকিস্তানের। বাংলাদেশের দরকার আরও ৫ উইকেট বা ২৯০ রানের কমে আটকানো।
ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়লো। এবার উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজ আউট করেন আব্দুল সামাদকে। ৫ চারে ৪৫ বলে ৩৪ রান করেন সামাদ।
দলীয় ৮২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। তাদের লক্ষ্য ২৯১ রান।
গাজী ঘোরি ও আবদুল সামাদ মিলে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। ঘোরিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেন নাহিদ রানা।
১৪তম ওভারের শেষ বলে নাহিদ রানার ইয়র্কার লেন্থের বল বুঝতেই পারেননি ঘোরি।৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ বলে ২৯ রান করে ফেরেন ঘোরি। তাতে ভাঙে চতুর্থ উইকেটে ৫০ রানের জুটি।
১৪ ওভার শেষে পাকিস্তান করেছে ৪ উইকেটে ৬৭ রান। জয়ের জন্য ৩৬ ওভারে পাকিস্তানের দরকার আরও ২২৪ রান। বাংলাদেশের দরকার আর ৬ উইকেট।
১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল পাকিস্তান। তবে আব্দুল সামাদ ও গাজী ঘোরির জুটিতে এগোচ্ছে পাকিস্তান। এরই মধ্যে দলীয় ৫০ পূর্ণ করেছে পাকিস্তান।
১২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাসকিন আহমেদকে চার মেরে দলীয় ৫০ পূর্ণ করেন ঘোরি।
দলীয় ১৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চাপ সামলাচ্ছেন অভিষিক্ত গাজী ঘোরি ও আব্দুল সামাদ। চতুর্থ উইকেটে এই জুটি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তুলেছে ২৬ রান।
১০ ওভার শেষে পাকিস্তান করেছে ৩ উইকেটে ৪৩ রান। ম্যাচ জিততে ৪০ ওভারে পাকিস্তানের দরকার আরও ২৪৮ রান।
২৯১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। ফারহান, সাদাকাতের পর আউট হন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। তাসকিনের বলে রিজওয়ান বোল্ড হন।
ব্যাট–প্যাডের ফাঁক গলে আঘাত হানা বলে অফ স্টাম্প উপড়ে গেছে। রিজওয়ান ৪ বলে ৪ রান করেন। একটি বাউন্ডারি মারেন তিনি।
দলীয় ১৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারাল পাকিস্তান। এমনিতে পাঁচে খেললেও এদিন নামেননি সালমান আলি আগা। নেমেছেন আব্দুল সামাদ।

নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পান নাহিদ রানাও। শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে বল ঠিকমতো ব্যাটে নিতে পারেননি মাজ সাদাকাত। বল গ্লাভসে লেগে ওপরে লিটনের হাতে জমা পড়ে। সাদাকাতও করেন ৫ বলে ৬ রান।

রান তাড়ায় নামা পাকিস্তানের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাহিবজাদা ফারহানকে উইকেটকিপার লিটনের ক্যাচ বানিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ৫ বলে ৬ রান করেন ফারহান।