শিরোনাম

গালি দেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করলো গ্রামবাসী

রাজশাহী সংবাদদাতা
গালি দেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করলো গ্রামবাসী
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলোয় অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে নিতে এসে উল্টো গ্রামবাসীকে গালি দেন পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় তাদের অবরুদ্ধ করে এলাকাবাসী। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বিনোদপুর মরাকুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক ওই কিশোর জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা গ্রামে পৌঁছেই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে লাঠিপেটা শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালি দেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তারা লোকজন জড়ো করেন। ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শত শত নারী-পুরুষ পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে বাগমারা থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় অবরুদ্ধ থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয় এবং ওই কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিনোদপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রেজাউল করিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা চাচাতো ভাই। ওই জমিতে সম্প্রতি সাদ্দাম হোসেন পাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। ক্ষুব্ধ হয়ে রেজাউল করিম জমিটি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। এর মধ্যে তিনি ভাড়াটে লোকজন নিয়ে জায়গাসহ বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন।

অন্যদিকে রেজাউল করিম বলেন, বাড়িটি আমার, সাদ্দাম দখল করে নিয়েছে। আমি বাড়িতে থাকার জন্য বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসছিলাম। সাদ্দাম হোসেন উল্টো লোকজন নিয়ে মব তৈরি করেছে।

স্থানীয় শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, অস্ত্রসহ আটক কিশোরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে বলেছিলাম। উল্টো পুলিশ এসে সাধারণ লোকজনকে গালিগালাজ করেছে। পুলিশের আচরণ ভালো ছিল না, এ জন্য পরিবেশ উত্তপ্ত হয়েছিল।

হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই ডি এম জহুরুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে নির্মাণাধীন বাড়ি নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে একজনকে আটকে রাখা হয়েছে জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। পরে ওসি স্যারের সহযোগিতায় উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।

/এসআর/