শিরোনাম

ইরান যুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের তেল হারিয়েছে বিশ্ববাজার

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে ৫০ বিলিয়ন ডলারের তেল হারিয়েছে বিশ্ববাজার
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর প্রায় ৫০ দিনে বিশ্ববাজার থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল হারিয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে জ্বালানি বিপর্যয়ের এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

কেপলার সংস্থার তথ্যমতে, সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজার থেকে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট হারিয়ে গেছে, যা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান মোয়াট এ ক্ষতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, এ বিপুল পরিমাণ তেল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো টানা ১০ সপ্তাহ বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল বন্ধ থাকার সমান। একইভাবে এটি ১১ দিন বিশ্বে সব যানবাহন বন্ধ থাকা বা পুরো বিশ্বের ৫ দিনের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার সমতুল্য।এ ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক মাসের কিংবা পুরো ইউরোপের এক মাসেরও বেশি সময়ের জ্বালানি প্রয়োজন মেটাতে পারত। এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রায় ৬ বছরের তেলের চাহিদার সমান।

সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্চ মাসে প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমান থেকে জেট ফুয়েল রপ্তানি ফেব্রুয়ারির ১৯.৬ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে মার্চ ও এপ্রিল মিলিয়ে মাত্র ৪.১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গড় হিসাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ধরে এই ঘাটতির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা জার্মানির বার্ষিক জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ বা অনেক ছোট দেশের পুরো অর্থনীতির সমান।

যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেপলারের তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক তেলের মজুদ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে এবং উৎপাদন ঘাটতি প্রতিদিন প্রায় ১২ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কুয়েত ও ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগতে পারে এবং কাতারের এলএনজি স্থাপনাগুলোর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালি খোলার বার্তা থাকলেও বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যার ফলে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/