শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২১: ৫৩

ইরান যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ বন্ধে বৈঠকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধ বন্ধে ইসলামাবাদে পররাষ্ট্র দপ্তরে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বসেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের ফয়সাল বিন ফারহান, তুরস্কের হাকান ফিদান এবং মিসরের বদর আবদেলাত্তি।

যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সেই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ইরানের কাছে পাঠিয়েছে। এর জবাবে ইরানও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

২১: ৪৬

কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১০ সেনা আহত

কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ১০ সেনা আহত
ইরানের হামলার পর কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে ধোঁয়া দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতের একটি সেনা ক্যাম্পে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির ১০ জন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আহত সেনাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং হামলায় কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।

মুখপাত্র জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে পাঠানো একাধিক ড্রোন দিয়ে দেশটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

তবে কাতারের সেনাবাহিনী সবকটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও নিষ্ক্রিয় করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

২১: ৩০

ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ

ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের কেন্দ্রে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তুরস্কেরর ইস্তাম্বুল শহরের কেন্দ্রে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে আয়োজিত এ সমাবেশে অংশ নেন প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী।

ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদে কয়েকটি রক্ষণশীল ধর্মীয় এনজিওর উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘প্রতিরোধ করো, গাজা জয়ী হবে’ এবং ‘মুসলিমরা নিপীড়নের কাছে মাথা নত করে না’—এমন নানা স্লোগান দেন।

এ ছাড়া ‘হত্যাকারী ইসরায়েল, হত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্র’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করা হয়।

বিক্ষোভকারী মেহমেত ইলমাজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে এসেছি—লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল ছিল ভেনেজুয়েলা, আগামীকাল হয়তো কিউবা হবে।’

আরেক বিক্ষোভকারী একরেম সাইলান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরায়েলিদের আচরণ নিয়ে তাদের সমালোচনা রয়েছে। তার ভাষায়, ‘সাইরেন বাজলেই তারা আশ্রয়ে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ইরানের মানুষ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তা বিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার বিষয় হিসেবে দেখছেন তারা।

২০: ৫৯

লেবাননে হামলায় ইসরায়েলি ফুটবলার মেনাশে

লেবাননে হামলায় ইসরায়েলি ফুটবলার মেনাশে
ইসরায়েলি ফুটবলার মেনাশে জালকা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে এক ইসরায়েলি ফুটবলারের অংশগ্রহণের অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে ঘিরে ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় ফুটবল সমর্থকরা ওই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ১৪-এর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পোশাক পরা মেনাশে জালকাকে একটি মেশিনগান থেকে গুলি ছুড়তে এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দক্ষিণ লেবাননের একটি অজ্ঞাত স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ভেতর থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি আরেকজন ইসরায়েলি সেনার সঙ্গে যৌথভাবে গুলি চালাচ্ছেন।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন পেশাদার ফুটবলারের এ ধরনের কর্মকাণ্ড খেলাধুলার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

২০: ৪৪

ইসরায়েলে রাসায়নিক কারখানায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি রাসায়নিক কারখানায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বিপজ্জনক রাসায়নিক নিঃসরণের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আক্রান্ত শিল্পাঞ্চল নিওত হোভাভ শিল্পাঞ্চল বিরসেবা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এ হামলায় অন্তত একজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিওত হোভাভ এলাকার বাসিন্দাদের অবশ্যই ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে হবে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কারণ, আক্রান্ত কারখানাটিতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ মজুত রয়েছে।

২০: ৩৩

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের শিল্পাঞ্চলে আগুন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের শিল্পাঞ্চলে আগুন
ইরানের হামলার পর ইসরায়েলের বিরসেবায় শিল্পাঞ্চলে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরসেবা অঞ্চলের নিওত হোভাভ শিল্পাঞ্চলে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে আঘাত হানার পরই অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এই হামলার ফলে শিল্প এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

২০: ১৬

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় হুথিদের প্রতি ফ্রান্সের নিন্দা

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় হুথিদের প্রতি ফ্রান্সের নিন্দা
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কনফাব্রো। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করায় ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে ফ্রান্স। দেশটির অভিযোগ, হুথি বিদ্রোহীরা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

হুথি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনটি শনিবার ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানের সামরিক শিল্প খাতকে লক্ষ্য করে তাদের হামলা জোরদার করার ঘোষণা দেয়, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

এ প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কনফাব্রো হুথিদের প্রতি সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির কর্মকাণ্ডকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেন।

ফরাসি এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত আচরণ করতে হবে। তার মতে, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

১৯: ৫৯

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত ৬

ইরানের একটি গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ঘটনায় নতুন করে ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওসমাভানদান নামের ওই গ্রামে একটি আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া আরও চারজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

হামলার ফলে গ্রামটির অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ২২টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৯: ২০

ইরানে হতাহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়ালো

ইরানে হতাহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়ালো
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬ জনে।

রবিবার প্রকাশিত এই পরিসংখ্যানে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ২১৬ জনই শিশু। একই সঙ্গে আহতের সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে এখন প্রায় সাড়ে ২৬ হাজারে পৌঁছেছে। আহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭ জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। এ পর্যন্ত ৩৩৬টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও জরুরি সেবাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় হতাহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

সূত্র: আল জাজিরা

১৮: ৫৯

‘সানডে ডন’ নামে নতুন অভিযানের দাবি আইআরজিসির

‘সানডে ডন’ নামে নতুন অভিযানের দাবি আইআরজিসির
ইরানের ড্রোন। ছবি: বিবিসি

ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন ধাপের একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, এই পর্যায়ে একযোগে ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘সানডে ডন’ বা ‘রোববার ভোর’ নামে পরিচালিত এই বহুমুখী অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরাকের ভিক্টোরিয়া ঘাঁটি, কুয়েতের আরিফজান এবং সৌদি আরবের আল খার্জ অঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ, ড্রোন পরিচালনা অবকাঠামো এবং অস্ত্রভাণ্ডারে আঘাত হানা। পাশাপাশি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—এমন আরও কিছু অঞ্চলকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্যমতে, ইসরায়েলের আরাদ, নেগেভ মরুভূমি ও তেল আবিব, ইরাকের এরবিল, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির আল ধাফরা ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘গোপন ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।

তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

১৮: ২২

আলোচনার আড়ালে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান

আলোচনার আড়ালে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: তেহরান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রকাশ্যে আলোচনার আগ্রহ দেখালেও অন্যদিকে গোপনে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক বার্তা দিলেও বাস্তবে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ–এর বরাতে গালিবাফ বলেন, ‘শত্রুপক্ষ একদিকে সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আড়ালে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন বাহিনী যদি স্থলভাগে অভিযান চালায়, তবে তাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই খবর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

১৭: ৫৩

ইসরায়েলের ১০০ শহরে ইরান-হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা

ইসরায়েলের ১০০ শহরে ইরান-হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা
ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে ইসরায়েলের ১০০ শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালিয়েছে। এ সময় দেশটির শতাধিক শহরে সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। যা পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে রকেট হামলা চালানো হয়। একই সময়ে ইরান থেকেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই সমন্বিত হামলার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একযোগে সতর্কসংকেত চালু করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলীয় এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি রেখেছে। হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

১৭: ০০

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের দফায় দফায় হামলা

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের দফায় দফায় হামলা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল তাওয়েলাহতে অবস্থিত এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়ামে বিষ্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শনিবারই (২৮ মার্চ) তারা সবচেয়ে তীব্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানায়, তাদের প্রধান উৎপাদন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

একই সময়ে বাহরাইনেও আঘাত হানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা) কারখানায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক অ্যালুমিনিয়াম বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎপাদন কেন্দ্র।

কুয়েতেও বড় ধরনের হামলার খবর মিলেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক এসব হামলার ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র: বিবিসি