শিরোনাম

ঐকমত্য কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারা হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐকমত্য কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারা হোসেন
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন। তিনি বলেছেন, এটিকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না। কয়েকজন বসে ডিসিশন নিয়েছেন। গণতন্ত্র এখানে কোথায় ছিল? কীসের নির্বাচন, কে এসেছে? বাইরে থেকে কে কথা বলতে পেরেছে? কেউ নয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সারা হোসেন এ কথা বলেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। বক্তব্য রাখেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী, ফাহিম মাশরুর প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে সারা হোসেন বলেন, গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়ে জনগণের কোনো ধারণা ছিল না। ৩০টা প্রস্তাব কী ছিল তা আপনারা কয়জন বলতে পারবেন? আপনারা কী জন্য ভোট দিয়েছেন, সেটা নিজেরা জানেন বলে আমার মনে হয় না। কী জন্য ভোট দিচ্ছি, এটা আমি যদি না জানি তাহলে ভোটের কত দূর মূল্য আছে?

সারা হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনে একজনও নারী সদস্য ছিলেন না। বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী আইনজীবী কিংবা বিচারপতিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মুখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। অনেক বিচারককে হঠাৎ করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের কয়েকজন বেশ দক্ষ ছিলেন।

সারা হোসেন বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মামলায় রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ‘মিথ্যাভাবে’ জুলাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এতগুলো মাস পার হয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত কোনো চার্জশিট নেই। এটা নিয়ে কি আমরা মুখ খুলছি? নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কিংবা বার সমিতি– কেউ না, সবাই চুপ করে আছি।

/এফসি/