শিরোনাম

আদালতের আদেশ অমান্য করে ফাঁসির দুই আসামিকে মুক্তি, শাস্তি পেলেন জেলার

বিশেষ প্রতিনিধি
আদালতের আদেশ অমান্য করে ফাঁসির দুই আসামিকে মুক্তি, শাস্তি পেলেন জেলার
কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুল্লাহেল আল-আমিন। তাকে পদাবনতি দিয়ে দুই বছরের জন্য ডেপুটি জেলার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কুমিল্লা কারাগারে কর্মরত অবস্থায় আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও দুইজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দেন মো. আব্দুল্লাহেল আল-আমিন। সরকারি আদেশ অমান্য এবং দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার দায়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে দুই বছরের জন্য নিম্নপদে অবনমিত করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে শাস্তির এ আদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের একটি আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। পরে ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট তাদের বেকসুর খালাস দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন এবং নিয়মিত আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন।

আপিল বিভাগের ওই স্থগিতাদেশের অনুলিপি ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর কুমিল্লা কারাগারে পৌঁছে এবং ২ নভেম্বর তা গ্রহণ করা হয়। ১২ নভেম্বর আসামিদের কয়েদি হিসেবে কারাগারে আটকও রাখা হয়।

তবে এসব নথি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন জেলার আল-আমিন সিনিয়র জেল সুপারের অনুপস্থিতিতে ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দেন।

মুক্তির সময় ডেপুটি জেলার তৌহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ফাইলে থাকা স্থগিতাদেশের বিষয়টি তাকে স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি তা আমলে না নিয়ে বলেন, স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এরপরই ওই দুই আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে তদন্তে তার এ কর্মকাণ্ড ‘অসদাচরণ’ ও ‘কর্তব্যে চরম অবহেলা’ হিসেবে প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মো. আব্দুল্লাহেল আল-আমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শের ভিত্তিতে সরকার মো. আব্দুল্লাহেল আল-আমিনকে এ শাস্তি দিয়েছে।

/বিবি/