হামের টিকা নিয়ে অবহেলায় ড. ইউনূসের বিচার চান আইনজীবী
শিশুদের হামের টিকা ও সিরিঞ্জ কেনাকাটায় মহাদুর্নীতির অভিযোগ!

হামের টিকা নিয়ে অবহেলায় ড. ইউনূসের বিচার চান আইনজীবী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে গেল ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ শিশুর। এই বিপর্যয়ের জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ জনস্বার্থে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারাদেশে যখন শিশুদের মৃত্যু নিয়ে শোকের ছায়া, তখন এই দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়।
৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট থাকার পরও হাহাকার কেন?
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে টিকা ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী হামের টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেনো সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা কেনাকাটা করা হলো না? এটি কি স্রেফ প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি?
অভিযোগের তীর যাদের দিকে
দুদকে দেওয়া চিঠিতে সরাসরি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঠিক তদারকির অভাব এবং কেনাকাটায় স্বচ্ছতা না থাকার কারণেই আজ শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে। বর্তমান সরকারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সংকটের জন্য পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে।
তদন্তের দাবি ও আইনি পদক্ষেপ
আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থখাত রক্ষায় এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রকার অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সম্প্রতি সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে উল্লেখ করে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুদে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিশুরা প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েছে।

সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে গেল ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ শিশুর। এই বিপর্যয়ের জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ জনস্বার্থে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারাদেশে যখন শিশুদের মৃত্যু নিয়ে শোকের ছায়া, তখন এই দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়।
৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট থাকার পরও হাহাকার কেন?
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে টিকা ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী হামের টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেনো সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা কেনাকাটা করা হলো না? এটি কি স্রেফ প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি?
অভিযোগের তীর যাদের দিকে
দুদকে দেওয়া চিঠিতে সরাসরি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঠিক তদারকির অভাব এবং কেনাকাটায় স্বচ্ছতা না থাকার কারণেই আজ শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে। বর্তমান সরকারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সংকটের জন্য পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে।
তদন্তের দাবি ও আইনি পদক্ষেপ
আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থখাত রক্ষায় এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রকার অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সম্প্রতি সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে উল্লেখ করে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুদে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিশুরা প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েছে।

হামের টিকা নিয়ে অবহেলায় ড. ইউনূসের বিচার চান আইনজীবী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে গেল ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮৬ শিশুর। এই বিপর্যয়ের জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ জনস্বার্থে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক যাচাই-বাছাই চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সারাদেশে যখন শিশুদের মৃত্যু নিয়ে শোকের ছায়া, তখন এই দুর্নীতির অভিযোগ স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
অভিযোগ উঠেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে আকস্মিক পরিবর্তন আনা হয়।
৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট থাকার পরও হাহাকার কেন?
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে টিকা ক্রয়ের জন্য প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের জন্য জীবনরক্ষাকারী হামের টিকা ও সিরিঞ্জ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারী আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, বিশাল অঙ্কের বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেনো সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা কেনাকাটা করা হলো না? এটি কি স্রেফ প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি?
অভিযোগের তীর যাদের দিকে
দুদকে দেওয়া চিঠিতে সরাসরি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ নাগরিক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঠিক তদারকির অভাব এবং কেনাকাটায় স্বচ্ছতা না থাকার কারণেই আজ শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে। বর্তমান সরকারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সংকটের জন্য পূর্ববর্তী অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে।
তদন্তের দাবি ও আইনি পদক্ষেপ
আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ তার আবেদনে উল্লেখ করেন, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থখাত রক্ষায় এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো প্রকার অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সম্প্রতি সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে প্রায় শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি রাষ্ট্রের একজন সচেতন নাগরিক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমাদের মারাত্মক ব্যথিত, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত করেছে। সরকারিভাবে শিশুদের হামসহ অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রোগের টিকার সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হাম রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও শিশুর মৃত্যুর সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, যা সত্যিই উদ্বেগজনক।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের পদ্ধতিতে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই পরিবর্তন আনে উল্লেখ করে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে যথেষ্ট (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) বাজেট থাকা সত্ত্বেও তারা সময়মতো হামসহ অন্যান্য রোগের টিকা ক্রয় এবং শিশুদের টিকা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ বেড়ে গেছে, যা একটি মহামারি আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্য খাতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থ খাত রক্ষা এবং শিশুদের জীবন রক্ষায় জনস্বার্থে এ জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুদকের তদন্ত করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুদে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিশুরা প্রাণ ঝুঁকিতে পড়েছে।




