শিরোনাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে যে বিষয়গুলো

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে যে বিষয়গুলো
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

৪০ দিন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দুই দেশের প্রতিনিধিদের পৃথক বৈঠকের পর সন্ধ্যায় প্রথমবার সরাসরি এক টেবিলে বসেন দুই চিরবৈরী রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

হাইভোল্টেজ এ বৈঠকে মূলত সাতটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম ধমনি হরমুজ প্রণালির ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে অনড় ইরান। অন্যদিকে হরমুজকে শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক ও মিসাইল কর্মসূচি চিরতরে বন্ধের শর্তে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এই সরাসরি আলোচনা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে খাদের কিনারা থেকে ফেরাতে পারবে কি না, তা জানা যাবে বৈঠক শেষ হলে।

প্রথম ধাপের আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নৈশভোজের বিরতির পর আবার শুরু হয় আলোচনা। শনিবার আলোচনা শেষ না হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রবিবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান এমন খবর জানা গেছে।

আল-জাজিরা বলছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি প্রচেষ্টা চলছে যাতে, এই আলোচনা আরও এক দিন চালিয়ে যায় দুই পক্ষ।

যে ৭ ইস্যুতে আলোচনায় গুরুত্ব

১. ইরান লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায়। মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় সেখানে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবাননে ইসরাইলি অভিযান মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ নয়; তবে তেহরানের দাবি, এটি চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২. ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের আটকে থাকা সম্পদ ছাড় করুক এবং অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক।

৩. ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চায়। তারা এ পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো ধরনের টোল বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তেলের ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকুক।

৪. ছয় সপ্তাহের এই যুদ্ধে হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।

৫. ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়। তবে ওয়াশিংটন এটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

৬. ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই চায় ইরানের মিসাইল সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হোক। কিন্তু তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের শক্তিশালী মিসাইল ভান্ডারের বিষয়ে কোনো আলোচনায় রাজি নয়।

৭. ইরান চায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধকামী বাহিনী প্রত্যাহার করা হোক, সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হোক।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

আটকে থাকা সম্পদ ও লেবানন ইস্যু: ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা শুরুর আগেই কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার ছাড় করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এমন কিছু ঘটেনি।

/টিই/