
সিটিজেন ডেস্ক


ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনায় একটি স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র হারেৎজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা ঘটনাস্থলে এই আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে নেগেভ অঞ্চলেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। গাজা উপত্যকার সীমান্তবর্তী এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছে হারেৎজ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টগুলো তার অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলছে। এতে তার ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও চাপের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে ‘একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার’ মতো বক্তব্য পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর দিন দিন আরও কঠোর হয়ে উঠছে, যা তার কাছে এই বার্তা দেয় যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাপের মুখে রয়েছেন।
আহমাদিয়ান বলেন, ‘তিনি চান তার হুমকিগুলো আরও বেশি প্রভাব ফেলুক এবং ইরানের জনগণ ও নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করুক।’
তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, ট্রাম্পের সব হুমকি বাস্তবে রূপ নাও নিতে পারে। কিন্তু তার পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—যার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও ইতোমধ্যে জানিয়েছে তেহরান।
আহমাদিয়ান আরও বলেন, সংঘাতের শুরুতেই যে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো কাটেনি। বরং এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার প্রত্যাশিত লক্ষ্য পূরণ করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্যগুলোর বড় অংশ অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স।
তিনি বলেন, ইরানে পরিচালিত সামরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তার প্রধান উদ্দেশ্যগুলো অনেকটাই বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে বলে তাদের মূল্যায়ন।
এছাড়া তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে।
উপ-রাষ্ট্রপতির মতে, কূটনৈতিক পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং শেষ মুহূর্তেও সমাধানের সুযোগ থাকতে পারে।

ইরানের খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলা মধ্যপাচ্যের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দ্বীপটিতে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখনো হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতীতে খার্গ দ্বীপে মূলত সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তেল অবকাঠামো সরাসরি টার্গেট করার নজির খুব কম। ফলে এবারের ঘটনাটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। কারণ, ইরানের তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ইরানের উদ্দেশে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি দ্রুত চরমে পৌঁছাতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হতে পারে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’
তবে একই পোস্টে তিনি বলেন, তিনি এমন পরিস্থিতি দেখতে চান না, যদিও ঘটনাপ্রবাহ সে দিকেই যাচ্ছে বলে তার আশঙ্কা।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে ‘বুদ্ধিমান ও কম উগ্র’ ব্যক্তিরা সামনে আসছে। এর ফলে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকেও মোড় নিতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘কে জানে—আজ রাতেই আমরা তা জানতে পারব। এটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হতে পারে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সহিংসতার অবসান ঘটতে পারে,’ এবং ইরানের জনগণের মঙ্গল কামনা করেন।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সীমা বা ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তবে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুধু এই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালালে ইরান কঠোর জবাব দিতে দ্বিধা করবে না।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি না হয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা এমন পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘ সময়ের জন্য এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কিন নেতৃত্ব হয়তো অনুমান করতে পারছে না, আমাদের প্রতিক্রিয়ার আওতায় তাদের কত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ পড়তে পারে।’
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যদি মার্কিন সামরিক বাহিনী আমাদের সীমা অতিক্রম করে, তাহলে আমাদের জবাব শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর প্রভাব আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে।’
সূত্র: আল জাজিরা

মধ্য ইসরায়েলে ইরানের ছোড়া রকেট হামলার পর পেতাহ টিকভা শহরে একটি ভবন ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার ফলে পেতাহ টিকভায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে নিকটবর্তী গিভাত শামুয়েল এলাকাতেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, মারিভ পত্রিকা পেতাহ টিকভার মেয়রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শহরটিতে প্রায় ১৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৬০ জন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, কান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া হামলায় উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় শহর নাহারিয়ায় তিনটি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গাড়িতে আগুন ধরে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের কাশান শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে সেতুতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়, কাশানের ইয়াহিয়া আবাদ রেলওয়ে সেতু লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসফাহান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হামলার আগে ইসরায়েল ইরানের জনগণকে ট্রেন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছিল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের ফার্সি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ প্রকাশ করে, যেখানে ইরানিদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেনে ভ্রমণ না করার এবং রেললাইন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত সারা দেশে ট্রেন চলাচল ও ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এতে আরও সতর্ক করা হয়, ‘ট্রেন বা রেললাইনের আশপাশে অবস্থান করা আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
উল্লেখ্য, ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি করাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আলটিমেটাম দিয়েছেন, তার সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) শেষ হওয়ার কথা।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া সম্ভব, এবং মঙ্গলবার রাতকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৩৩ জন ইসরায়েলি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৭টা থেকে আজ সকাল ৭টার মধ্যে এসব আহতকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, পাঁচজন মাঝারি মাত্রায় আহত এবং বাকি ১২৭ জন তুলনামূলকভাবে হালকা আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে, উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর হামলাও চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা