শিরোনাম

হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে নতুন প্রযুক্তির জাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে নতুন প্রযুক্তির জাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের
লিটোরাল কমব্যাট শিপ। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এখন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ ব্যবহার করছে।

আগে মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি মাইনফিল্ডে প্রবেশকারী জাহাজ ব্যবহার করত। এই পদ্ধতিতে পানির নিচে পেতে রাখা মাইন শনাক্তের জন্য মাইন-সুইপিং শিপে সোনার সিস্টেম থাকে। এর মধ্যমে মাইন শনাক্তের পর সেগুলো ধ্বংস করা হয়। যেহেতু মাইন-সুইপিং শিপ মানবচালিত, তাই স্বাভাবিকভাবেই জাহাজের চালক ও ক্রুদের মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয়, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

এর পরিবর্তে এখন ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামে হালকা ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে মার্কিন বাহিনী। হালকা বা লাইটার ধরনের এই জাহাজটি আধা-স্বয়ংক্রিয়। এটি রিমোট কনট্রোল ড্রোন, সেন্সর এবং রোবট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এগুলোর মাধ্যমে জাহাজের ক্রুরা দূরে থেকেই অভিযান পরিচালনা করতে পারে। ফলে সেনাদের আর মাইনফিল্ডে প্রবেশ করার প্রয়োজন হয় না।

বর্তমানে মার্কিন নৌবহরে এ ধরনের তিনটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। তবে কার্যকর আছে একটি। বাকি দু’টি জাহাজকে মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেরামত শেষ হলেই সেগুলো বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব জাহাজ সম্প্রতি ডিজেল থেকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রযুক্তিগতভাবে আরও উন্নত ও সক্ষমতা অর্জন করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে প্রায় এক ডজন মাইন স্থাপন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সব মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আবারও নতুন মাইন ব্যবহার করতে পারে।

ইরানের সম্ভাব্য মাইন প্রযুক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে বিভিন্ন ধরনের নৌমাইন রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম সমুদ্রতলে থাকা ‘বটম মাইন’। এছাড়া পানির নিচে নোঙর করা ‘টেথার্ড মাইন’, পানিতে ভেসে থাকা ‘ড্রিফটিং মাইন’ এবং জাহাজের গায়ে লাগানো ‘লিম্পেট মাইন’ রয়েছে।

সাবেক ব্রিটিশ নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল জন পেনট্রেথ বলেন, মাইন যুদ্ধ তুলনামূলকভাবে সস্তা হলেও এগুলো অপসারণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এমনকি শুধু মাইন বসানোর আশঙ্কাই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি থেকে সবগুলো মাইন অপসারণ করতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সাবেক মার্কিন নৌ কর্মকর্তা ব্রায়ান ক্লার্ক বলেন, মাইন অপসারণের সময় ইরানের সম্ভাব্য হামলা দলের কার্যক্রমকে ধীর করে দিতে পারে। এর ফলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।

মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল বলেন, মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রযুক্তি এই কাজকে দ্রুত করার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

এখন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হলো একাধিক স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করে মাইন খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করা।

সূত্র: রয়টার্স

/জেএইচ/