আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ
সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়

সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়
সেলিনা আক্তার

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবিতে নারীরা যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তারই প্রতীক হয়ে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি ঐতিহাসিক স্মৃতি, বর্তমানের আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকারের দিন। আজকের এই বিশেষ দিনে সব বাধা পেরিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিতে হবে নারীদের।। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য– ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’
সংগ্রামের পথ ধরে নারী দিবস
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ঊনিশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের শুরুতে শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমবাজারে যুক্ত হন। কিন্তু তাদের কর্ম পরিবেশ ছিল খুব কঠিন। দীর্ঘ সময় কাজ করা, কম মজুরি এবং শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির না পাওয়ার যন্ত্রণা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
ওই সময়ে কর্মক্ষেত্রে থাকা এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা কমানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ভোটাধিকারের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক এই দাবিতে রাস্তায় মিছিল করেন। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে নারী দিবসের ধারণার ভিত্তি তৈরি করে।
এই আন্দোলনের এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও নারী অধিকারকর্মী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে তিনি নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ১৭টি দেশের প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি তার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেন।
এরপর ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়।
ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় আসে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে নারীদের ধর্মঘট শুরু হয়, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ৮ মার্চ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন শুরু করলে দিবসটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়।

কেন নারী দিবসের প্রতীক বেগুনি?
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সঙ্গে একটি বিশেষ রঙের সম্পর্ক রয়েছে।আর সেই রঙ হচ্ছে বেগুনি। বিশ্বজুড়ে নারী দিবসের প্রতীক হিসেবে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা হয়, অনেক সময় এর সঙ্গে সাদা রঙের সংমিশ্রণও দেখা যায়।
বেগুনি রঙকে নারীর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সুবিচার, মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক, যা নারীর সমতা ও অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এই বেগুনি রঙ নারীবাদী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উপমহাদেশে নারী জাগরণের আলো
দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে দীর্ঘদিন নারীরা নানা সামাজিক বাধা, কুসংস্কার ও বৈষম্যের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সীমিত।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উপমহাদেশের সমাজসংস্কারক ও নারী শিক্ষার অগ্রদূতেরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তির প্রশ্নে তার চিন্তা ও আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তাই নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লেখালেখি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তিনি নারীর আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অগ্রযাত্রা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে লাখ লাখ নারী শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, কূটনীতি, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা খাতেও নারীরা অসাধারণ দক্ষতার ছাপ রাখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। ফলে পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ছে।

নারী দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে আলোচনা সভা, র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছরও দেওয়া হচ্ছে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’। এই কর্মসূচির আওতায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
এ ছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালনের নির্দেশ দিয়েছে।
নারীদের উন্নয়নে কিছু পরামর্শ
নারী নেত্রীরা মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর অগ্রগতি মানে কেবল একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নয়; এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার ভিত্তি। তাই নারী দিবসের অঙ্গীকার যেন শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে—বরং প্রতিদিনের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, তবেই গড়ে উঠবে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ।

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবিতে নারীরা যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তারই প্রতীক হয়ে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি ঐতিহাসিক স্মৃতি, বর্তমানের আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকারের দিন। আজকের এই বিশেষ দিনে সব বাধা পেরিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিতে হবে নারীদের।। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য– ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’
সংগ্রামের পথ ধরে নারী দিবস
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ঊনিশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের শুরুতে শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমবাজারে যুক্ত হন। কিন্তু তাদের কর্ম পরিবেশ ছিল খুব কঠিন। দীর্ঘ সময় কাজ করা, কম মজুরি এবং শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির না পাওয়ার যন্ত্রণা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
ওই সময়ে কর্মক্ষেত্রে থাকা এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা কমানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ভোটাধিকারের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক এই দাবিতে রাস্তায় মিছিল করেন। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে নারী দিবসের ধারণার ভিত্তি তৈরি করে।
এই আন্দোলনের এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও নারী অধিকারকর্মী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে তিনি নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ১৭টি দেশের প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি তার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেন।
এরপর ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়।
ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় আসে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে নারীদের ধর্মঘট শুরু হয়, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ৮ মার্চ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন শুরু করলে দিবসটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়।

কেন নারী দিবসের প্রতীক বেগুনি?
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সঙ্গে একটি বিশেষ রঙের সম্পর্ক রয়েছে।আর সেই রঙ হচ্ছে বেগুনি। বিশ্বজুড়ে নারী দিবসের প্রতীক হিসেবে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা হয়, অনেক সময় এর সঙ্গে সাদা রঙের সংমিশ্রণও দেখা যায়।
বেগুনি রঙকে নারীর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সুবিচার, মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক, যা নারীর সমতা ও অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এই বেগুনি রঙ নারীবাদী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উপমহাদেশে নারী জাগরণের আলো
দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে দীর্ঘদিন নারীরা নানা সামাজিক বাধা, কুসংস্কার ও বৈষম্যের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সীমিত।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উপমহাদেশের সমাজসংস্কারক ও নারী শিক্ষার অগ্রদূতেরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তির প্রশ্নে তার চিন্তা ও আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তাই নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লেখালেখি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তিনি নারীর আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অগ্রযাত্রা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে লাখ লাখ নারী শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, কূটনীতি, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা খাতেও নারীরা অসাধারণ দক্ষতার ছাপ রাখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। ফলে পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ছে।

নারী দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে আলোচনা সভা, র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছরও দেওয়া হচ্ছে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’। এই কর্মসূচির আওতায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
এ ছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালনের নির্দেশ দিয়েছে।
নারীদের উন্নয়নে কিছু পরামর্শ
নারী নেত্রীরা মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর অগ্রগতি মানে কেবল একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নয়; এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার ভিত্তি। তাই নারী দিবসের অঙ্গীকার যেন শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে—বরং প্রতিদিনের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, তবেই গড়ে উঠবে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ।

সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়
সেলিনা আক্তার

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবিতে নারীরা যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তারই প্রতীক হয়ে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি ঐতিহাসিক স্মৃতি, বর্তমানের আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকারের দিন। আজকের এই বিশেষ দিনে সব বাধা পেরিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য দূর করার দৃঢ় প্রত্যয় নিতে হবে নারীদের।। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য– ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’
সংগ্রামের পথ ধরে নারী দিবস
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস মূলত শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ঊনিশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের শুরুতে শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমবাজারে যুক্ত হন। কিন্তু তাদের কর্ম পরিবেশ ছিল খুব কঠিন। দীর্ঘ সময় কাজ করা, কম মজুরি এবং শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির না পাওয়ার যন্ত্রণা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।
ওই সময়ে কর্মক্ষেত্রে থাকা এই ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে নারীরা রাস্তায় নেমে আসেন। ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা কমানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ভোটাধিকারের দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক এই দাবিতে রাস্তায় মিছিল করেন। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে নারী দিবসের ধারণার ভিত্তি তৈরি করে।
এই আন্দোলনের এক বছর পর আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও নারী অধিকারকর্মী ক্লারা জেটকিন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে তিনি নারী দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ১৭টি দেশের প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি তার প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেন।
এরপর ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়।
ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় আসে ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় নারী শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে নারীদের ধর্মঘট শুরু হয়, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ৮ মার্চ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন শুরু করলে দিবসটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায়।

কেন নারী দিবসের প্রতীক বেগুনি?
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সঙ্গে একটি বিশেষ রঙের সম্পর্ক রয়েছে।আর সেই রঙ হচ্ছে বেগুনি। বিশ্বজুড়ে নারী দিবসের প্রতীক হিসেবে বেগুনি রঙ ব্যবহার করা হয়, অনেক সময় এর সঙ্গে সাদা রঙের সংমিশ্রণও দেখা যায়।
বেগুনি রঙকে নারীর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সুবিচার, মর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক, যা নারীর সমতা ও অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে এই বেগুনি রঙ নারীবাদী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উপমহাদেশে নারী জাগরণের আলো
দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে দীর্ঘদিন নারীরা নানা সামাজিক বাধা, কুসংস্কার ও বৈষম্যের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল সীমিত।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উপমহাদেশের সমাজসংস্কারক ও নারী শিক্ষার অগ্রদূতেরা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন । নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তির প্রশ্নে তার চিন্তা ও আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া নারীর প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। তাই নারী শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লেখালেখি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তিনি নারীর আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অগ্রযাত্রা
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে লাখ লাখ নারী শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশাসন, কূটনীতি, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা খাতেও নারীরা অসাধারণ দক্ষতার ছাপ রাখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। ফলে পরিবার ও সমাজে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বাড়ছে।

নারী দিবসে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে আলোচনা সভা, র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করা হয়েছে।
নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছরও দেওয়া হচ্ছে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’। এই কর্মসূচির আওতায় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
এ ছাড়া নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালনের নির্দেশ দিয়েছে।
নারীদের উন্নয়নে কিছু পরামর্শ
নারী নেত্রীরা মনে করেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্র, সমাজ এবং পরিবারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়ানো সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সামাজিক মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীর অগ্রগতি মানে কেবল একটি জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নয়; এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার ভিত্তি। তাই নারী দিবসের অঙ্গীকার যেন শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে—বরং প্রতিদিনের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, তবেই গড়ে উঠবে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ সমাজ।




