শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে ঢাবিতে দেয়াললিখন, উত্তেজনা

শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে ঢাবিতে দেয়াললিখন, উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেয়াললিখন ঘিরে গতকাল বুধবার রাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা বলেন, এসব ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও গতকাল রাতে একই রকম দেয়াললিখন দেখা গেছে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের কর্মীরা হল সংসদ কক্ষের সামনের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন। এতে বাধা দেন হল সংসদের ছাত্রশিবির প্যানেলের পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেক রহমান শাকিব।
বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারেক ছাত্রদলের একজন কর্মীকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের। তাদের এক কর্মীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ করে তারা। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হাসানুল বান্না তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শৃঙ্খলা নষ্টের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিবাদের নামে বিজয় একাত্তর হলের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করছে একটা গোষ্ঠী।’
একই দিনে রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
হল সূত্র জানায়, ছাত্রদল হলে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’ লিখে দেয়াললিখন করে। প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ‘আদু ভাইদের ঠিকানা, আবাসিক হলে হবে না’শীর্ষক দেয়াললিখন করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হলের হাউস টিউটর মিজানুর রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি দুটি দেয়াললিখনই মুছে ফেলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা দেয়াললিখন মুছে ফেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, আগে প্রধাক্ষ্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগপর্যন্ত দেওয়াললিখন এভাবেই থাকবে।
অন্যদিকে গতকাল গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথিকক্ষে ছাত্রদলের উদ্যোগে দেওয়ালে ‘গুপ্ত শিবির’ লেখা হয়।
হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এই দেওয়াললিখনকে ‘মস্তিষ্কবিকৃত কার্যক্রম’, ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ হিসেবে অভিহিত করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
বিষয়টি নিয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খালেদ হাসান ফেসবুকে লেখেন, অতিথিকক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ছাত্রদল–শিবির দ্বন্দ্বে জড়াবে, এটা হয়তো তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু হলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া সত্যিই তাঁর জন্য কষ্টের।
ছয় সাংবাদিককে হেনস্তা
দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল–ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা–হুমকির শিকার হয়েছেন। বিজয় একাত্তর ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। তাঁরা হলেন ইফতেখার সোহান সিফাত, আসাদুজ্জামান খান ও হারুন ইসলাম।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাঁকে ভিডিও ধারণে বাধা দেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। পরিচয় দিলে তাঁকে বলা হয়, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’
অন্যদিকে গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেওয়াললিখন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে তাঁরা গিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা হলেন মানজুর হোছাইন মাহি, নাইমুর রহমান ইমন ও সজীব মিয়া।
বিজয় একাত্তর হলের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিনসহ অন্য নেতারা। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ঘটনার বিষয়ে মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের চিনতে না পেরে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাঁদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনিসহ হলের যাঁরা সিনিয়র রয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিকেরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তাঁরা নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গতকাল রাতে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেয়াললিখন ঘিরে গতকাল বুধবার রাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা বলেন, এসব ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও গতকাল রাতে একই রকম দেয়াললিখন দেখা গেছে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের কর্মীরা হল সংসদ কক্ষের সামনের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন। এতে বাধা দেন হল সংসদের ছাত্রশিবির প্যানেলের পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেক রহমান শাকিব।
বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারেক ছাত্রদলের একজন কর্মীকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের। তাদের এক কর্মীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ করে তারা। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হাসানুল বান্না তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শৃঙ্খলা নষ্টের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিবাদের নামে বিজয় একাত্তর হলের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করছে একটা গোষ্ঠী।’
একই দিনে রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
হল সূত্র জানায়, ছাত্রদল হলে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’ লিখে দেয়াললিখন করে। প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ‘আদু ভাইদের ঠিকানা, আবাসিক হলে হবে না’শীর্ষক দেয়াললিখন করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হলের হাউস টিউটর মিজানুর রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি দুটি দেয়াললিখনই মুছে ফেলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা দেয়াললিখন মুছে ফেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, আগে প্রধাক্ষ্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগপর্যন্ত দেওয়াললিখন এভাবেই থাকবে।
অন্যদিকে গতকাল গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথিকক্ষে ছাত্রদলের উদ্যোগে দেওয়ালে ‘গুপ্ত শিবির’ লেখা হয়।
হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এই দেওয়াললিখনকে ‘মস্তিষ্কবিকৃত কার্যক্রম’, ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ হিসেবে অভিহিত করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
বিষয়টি নিয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খালেদ হাসান ফেসবুকে লেখেন, অতিথিকক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ছাত্রদল–শিবির দ্বন্দ্বে জড়াবে, এটা হয়তো তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু হলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া সত্যিই তাঁর জন্য কষ্টের।
ছয় সাংবাদিককে হেনস্তা
দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল–ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা–হুমকির শিকার হয়েছেন। বিজয় একাত্তর ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। তাঁরা হলেন ইফতেখার সোহান সিফাত, আসাদুজ্জামান খান ও হারুন ইসলাম।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাঁকে ভিডিও ধারণে বাধা দেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। পরিচয় দিলে তাঁকে বলা হয়, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’
অন্যদিকে গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেওয়াললিখন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে তাঁরা গিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা হলেন মানজুর হোছাইন মাহি, নাইমুর রহমান ইমন ও সজীব মিয়া।
বিজয় একাত্তর হলের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিনসহ অন্য নেতারা। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ঘটনার বিষয়ে মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের চিনতে না পেরে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাঁদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনিসহ হলের যাঁরা সিনিয়র রয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিকেরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তাঁরা নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গতকাল রাতে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে ঢাবিতে দেয়াললিখন, উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে দেয়াললিখন ঘিরে গতকাল বুধবার রাতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা বলেন, এসব ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলেও গতকাল রাতে একই রকম দেয়াললিখন দেখা গেছে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে ‘প্রতিবাদী দেয়াললিখন’ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছাত্রদলের কর্মীরা হল সংসদ কক্ষের সামনের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে লিখেছিলেন। এতে বাধা দেন হল সংসদের ছাত্রশিবির প্যানেলের পাঠকক্ষ সম্পাদক তারেক রহমান শাকিব।
বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারেক ছাত্রদলের একজন কর্মীকে গালাগাল করেন বলে অভিযোগ বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের। তাদের এক কর্মীর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ করে তারা। এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হাসানুল বান্না তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শৃঙ্খলা নষ্টের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিবাদের নামে বিজয় একাত্তর হলের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য এবং শৃঙ্খলা নষ্ট করছে একটা গোষ্ঠী।’
একই দিনে রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
হল সূত্র জানায়, ছাত্রদল হলে ‘গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাক’ লিখে দেয়াললিখন করে। প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ‘আদু ভাইদের ঠিকানা, আবাসিক হলে হবে না’শীর্ষক দেয়াললিখন করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হলের হাউস টিউটর মিজানুর রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি দুটি দেয়াললিখনই মুছে ফেলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা দেয়াললিখন মুছে ফেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁরা বলেন, আগে প্রধাক্ষ্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। এর আগপর্যন্ত দেওয়াললিখন এভাবেই থাকবে।
অন্যদিকে গতকাল গভীর রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথিকক্ষে ছাত্রদলের উদ্যোগে দেওয়ালে ‘গুপ্ত শিবির’ লেখা হয়।
হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এই দেওয়াললিখনকে ‘মস্তিষ্কবিকৃত কার্যক্রম’, ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ হিসেবে অভিহিত করে ফেসবুকে পোস্ট দেন।
বিষয়টি নিয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খালেদ হাসান ফেসবুকে লেখেন, অতিথিকক্ষে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তাঁর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। ছাত্রদল–শিবির দ্বন্দ্বে জড়াবে, এটা হয়তো তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু হলের উন্নয়নমূলক কাজগুলো এভাবে নষ্ট করে দেওয়া সত্যিই তাঁর জন্য কষ্টের।
ছয় সাংবাদিককে হেনস্তা
দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল–ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ছয়জন সাংবাদিক হেনস্তা–হুমকির শিকার হয়েছেন। বিজয় একাত্তর ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল রাত ৮টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। তাঁরা হলেন ইফতেখার সোহান সিফাত, আসাদুজ্জামান খান ও হারুন ইসলাম।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। তাঁকে ভিডিও ধারণে বাধা দেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। পরিচয় দিলে তাঁকে বলা হয়, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’
অন্যদিকে গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে তিন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেওয়াললিখন ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার সংবাদ সংগ্রহ করতে তাঁরা গিয়েছিলেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিকেরা হলেন মানজুর হোছাইন মাহি, নাইমুর রহমান ইমন ও সজীব মিয়া।
বিজয় একাত্তর হলের ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিনসহ অন্য নেতারা। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ঘটনার বিষয়ে মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের চিনতে না পেরে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তাঁদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে কথা বলেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনিসহ হলের যাঁরা সিনিয়র রয়েছেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিকেরা কারও প্রতিপক্ষ নন। তাঁরা নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গতকাল রাতে সাংবাদিকেরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।




