শিরোনাম

বিমানভাড়া বৃদ্ধিতে পণ্য রপ্তানিতে ধস, বাজার হারানোর শঙ্কা

বিশেষ প্রতিনিধি
বিমানভাড়া বৃদ্ধিতে পণ্য রপ্তানিতে ধস, বাজার হারানোর শঙ্কা
প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। বাজার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে ভারতের কাছে। এমনটাই জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাজ্যে সবজি ও ফল সরবরাহ করে আসছে তপন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি। তবে কিছুদিন ধরে তাদের পণ্য রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। আগে যেখানে প্রতিমাসে ৩০ টির মতো চালান রপ্তানি করা হতো, বর্তমানে তা ৭ থেকে ৮-এ নেমে এসেছে।

এজেন্সির মালিক উত্তম কুমার সাহা বলেন, সবজি রপ্তানি করা হয় প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। বায়াররা যেখানে একটু দাম কম পাবে, সে দেশ থেকেই সাধারণত পণ্য নিয়ে থাকেন। সম্প্রতি ভারত সরকার তাদের বিমান ভাড়া কমিয়েছে। অথচ উল্টো বাংলাদেশের সেদিনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে করে আমাদের রপ্তানিতে ব্যাপক ধস নেমেছে।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে তাদের পণ্য রপ্তানি করতে হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা টিকতে পারছেন না‌। এতে বাজার হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেটি চলে যাচ্ছে ভারতের দখলে।

রপ্তানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, বিমানভাড়া অনেক বেড়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতি কেজি কৃষিপণ্য পাঠাতে খরচ হচ্ছে ১৮০–২৮০ টাকা, যা সংঘাতের আগে ছিল ১২০–১৪০ টাকা। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে এ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২০–৬৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৪০০–৪৫০ টাকা। অন্যান্য গন্তব্যেও ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এছাড়া, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সবজি ও ফলের কনটেইনার পাঠাতে খরচ হতো প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ৪০০ ডলারে।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এক মাসের মধ্যে বিমানভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় বুকিং দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভারতের রপ্তানিকারকরা এ ধরনের ভাড়া বৃদ্ধির মুখে পড়েননি এবং আগের দামে রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানির বড় বাজার হাতছাড়া হয়ে যাবে।

তারা আরও জানান, ভারতে প্রতি কেজি রপ্তানি খরচ ২০০–২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানে আরও কম, যেখানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাচ্ছেন তারা।

আমের মৌসুম ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সবজি রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে শুকনো খাবার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, মশলা ১২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং পানীয়, স্পিরিট ও ভিনেগার রপ্তানি ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে।

আসন্ন মে–সেপ্টেম্বরের আম রপ্তানি মৌসুম। এই মৌসুমকে সামনে রেখে রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাড়তি ভাড়া আম ও কাঁঠালের চালানে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ রপ্তানিকারকরা ফল ‘গ্লোবাল গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস’ (জিএপি) মানদণ্ড মেনে চাষ করা হয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেশি।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, রপ্তানি ‘প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে’ এবং লন্ডনে প্রতি কেজি পাঠাতে ভাড়া এখন প্রায় ৬০০ টাকা, যা আগে ৪০০ টাকার নিচে ছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আম রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ১৯৪ টন, যা ২০২৩ সালের ৩ হাজার ১০০ টন থেকে কম এবং ২০২৪ সালের ১ হাজার ৩২১ টন থেকে বেশি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমের মৌসুমের আগে কার্গো ভাড়া সমস্যার সমাধানে এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

/এফআর/