শিরোনাম

মার্চে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
মার্চে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর
প্রতীকী ছবি

দেশের অর্থনীতির অন্যতম দুই চালিকাশক্তি উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) ও নির্মাণ খাতে মার্চ মাসে বড় ধরনের মন্থর গতি দেখা দিয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের (পিইবি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নির্দেশক ‘পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই) মার্চ মাসে ২.২ পয়েন্ট কমে ৫৩.৫-এ নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূচকটি ৫০-এর উপরে থাকা মানে অর্থনীতি এখনও সম্প্রসারণের পথে থাকলেও, পয়েন্টের পতন প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ারই ইঙ্গিত দেয়।

সংকুচিত হচ্ছে উৎপাদন ও নির্মাণ

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ মাসে উৎপাদন ও নির্মাণ খাত সরাসরি সংকোচনের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনের নতুন ক্রয়াদেশ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি গত মাসের তুলনায় দুর্বল ছিল।

অন্যদিকে, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও তার গতি ছিল আগের চেয়ে অনেক কম। অর্থনীতির এই নেতিবাচক প্রবণতার মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল সেবা খাত। ব্যাংক, বিমা ও পরিবহনের মতো সেবা খাতগুলোতে মার্চ মাসে আগের মাসের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

নেপথ্য কারণ ও কারিগরি সহায়তা

এমসিসিআই জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অফ পারচেজিং অ্যান্ড মেটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট (এসআইপিএমএম) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতায় এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী ও নীতি-নির্ধারকদের দেশের অর্থনীতির তাৎক্ষণিক গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সজাগ করার লক্ষ্যেই এই মাসিক সূচক প্রকাশ করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতের এই নেতিবাচক পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক সরবরাহ চেইন ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কৃষি খাতে মন্থর প্রবৃদ্ধি খাদ্যমূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের আগামী দিনগুলোতে আরও সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির মহাসচিব ও সিইও ফারুক আহমেদ জানান, দেশের অর্থনীতির স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে এই পিএমআই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

/এফআর/