শিরোনাম

বাড়তি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির প্রতিবাদে রাজপথে ক্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড়তি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির প্রতিবাদে রাজপথে ক্যাব
ক্যাবের মানববন্ধন। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ‘অসাধু’ ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৩০ থেকে ৩৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে আরও সক্রিয় হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের কিছু রিফাইনারির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আবার বর্তমানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম কমে গেছে।’

ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৭০ টাকা হলেও বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব অনিয়ম বাজারে তদারকির ঘাটতির প্রমাণ।’

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকারের চলমান অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।’

মানববন্ধনে ক্যাবের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরে হয়েছে। দাবিগুলো হলো-

১. সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

২. সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৩. বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি ও অভিযান জোরদার করতে হবে।

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।

৬. ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

/এফআর/