শিরোনাম

মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়তে হবে: ডা. শফিকুর রহমান

সিটিজেন ডেস্ক
মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়তে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নয়, বরং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করতে হবে, তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হয় ।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খাতের শ্রমিকরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। একজন পরিবহন শ্রমিককে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে তাদের আয় কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকরাও আগের তুলনায় কম জ্বালানি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। এতে শ্রমিকদের পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপে পড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরার সুযোগও দেওয়া হয় না। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে তার জোটকে পরাজিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, যারা জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই প্রতারিত হবে, এবং ভবিষ্যতে জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা, এমনকি গাড়িসহ বিভিন্ন সুবিধা তিনি লিখিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তবে কোনোভাবেই নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে না। কারখানায় অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে মালিক-শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও।

তিনি নতুন ব্যাংক আইনের সমালোচনা করে বলেন, এর মাধ্যমে জনগণের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং এটি ‘ব্যাংক ডাকাতদের’ হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এ ধরনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অনেক সময় সংবাদমাধ্যমকে সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হয় এবং মিথ্যা প্রচারে বাধ্য করা হয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সংসদে কাজ করার কথাও জানান।

শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাহিদা খুবই সীমিত হলেও কোনো সরকারই তা পূরণে আন্তরিক হয়নি। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা সাধারণত শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন।

তিনি আরও বলেন, কিছু শ্রমিক সংগঠন অধিকারের নামে মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উসকে দেয়, যা শিল্পখাতে বিভাজন তৈরি করে। এর পরিবর্তে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। ‘শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্পও টিকে থাকবে’—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সব দায়িত্ব মালিকের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। রাষ্ট্রকেও তার দায়িত্ব নিতে হবে। শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে শ্রমিকদের অনেক সময় কিছু নেতার স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে শ্রমিকদের প্রকৃত অবস্থার উন্নতি হয়নি।

সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরী থেকে আসা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।

/এমআর/