শিরোনাম

বজ্রপাতে চার জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

সিটিজেন ডেস্ক
বজ্রপাতে চার জেলায় ১১ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

তালগাছ কৌশল ব্যর্থ প্রমাণ করে বজ্রপাতে একদিনে দেশের চার জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ৫ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন আরও ২ জন।

নিহতরা হলেন
জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ, তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া। দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করছিলেন কালা মিয়া ও নূর মোহাম্মদ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কালা মিয়া নিহত হন। আহত নূর মোহাম্মদকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা সংবাদদাতা জানান, আটপাড়া উপজেলার ধলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ্‌নূর রহমান।

এর আগে সকালে উপজেলার সুখারি ইউনিয়নে ধলার হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় কৃষক আলতু মিয়ার। তিনি সুখারি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। অন্যজনের পরিচয় জানা যায়নি।

রংপুর সংবাদদাতা জানান, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। সকালে উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- বড় হযরতপুর এলাকার তালেব উদ্দিন এবং মাছ ধরতে আসা মিলন মিয়া।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বৃষ্টির আগে একটি পুকুরে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই দৃশ্য দেখতে পাড়ে ভিড় করেন ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী। পাশের আরেকটি পুকুরে কচুরিপানা কাটছিলেন একজন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রসঙ্গত, সারা দেশে ৪০ লাখ তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, এতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু কমবে। প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ও হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, তালগাছ কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবার ১ হাজার ৩২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়ে আসছে। এর আওতায় বসানো হবে বজ্রনিরোধক দণ্ড (লাইটনিং অ্যারেস্টার), বানানো হবে আশ্রয়কেন্দ্র।

অবশ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল ব্যয়ের এই প্রকল্প আসলে টাকার অপচয়। আশ্রয়কেন্দ্র বানিয়ে বজ্রপাতে প্রাণহানি ঠেকানো যাবে না। দরকার সচেতনতা। সেটা নিশ্চিতে অল্প ব্যয় করলেই কাজ হবে।

/এসআর/