শিরোনাম

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, খালি নেই আইসিইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বাড়ছে রোগী, খালি নেই আইসিইউ
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ দিন দিন বাড়ছে। গুরুতর রোগীদের জন্য আইসিইউ প্রয়োজন হলেও সেখানে কোনো শয্যা খালি নেই। ফলে অক্সিজেন ও সাধারণ সাপোর্টে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক শিশুকে, যা অভিভাবকদের মধ্যে বাড়াচ্ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ভিড় করছেন। তবে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে ওয়ার্ডে শয্যা সংকট ও আইসিইউ না পাওয়ার সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।

শরিয়তপুর সদর থেকে ৬ মাস বয়সী কন্যাশিশু মাহিমাকে নিয়ে আসা মহসিন শিকদার সিটিজেন জার্নালকে জানান, কয়েকদিন আগে হাম নিয়ে ঢাকায় এলেও এখন নিউমোনিয়া বেড়ে শিশুটির শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়েছে। চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও খালি শয্যা না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অক্সিজেন দিয়ে চিকিৎসা চলছে।

৬ মাস বয়সী মাহিমা হামে আক্রান্ত হয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
৬ মাস বয়সী মাহিমা হামে আক্রান্ত হয়ে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

তিনি বলেন, চিকিৎসা ভালো, ডাক্তাররা নিয়মিত দেখছেন, কিন্তু আইসিইউ না পাওয়াটা এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

কেরানিগঞ্জ থেকে আসা মো. সোহেল জানান, তার ৬ মাস বয়সী সন্তান মরিয়মকে নিয়ে ১২ দিন ধরে হাসপাতালে আছেন। প্রথমে জ্বর, পরে নিউমোনিয়া ও হাম ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে আইসিইউতে রাখা হয়, পরে কিছুটা সুস্থ হলে আবার ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে পটুয়াখালী থেকে আসা আরেক অভিভাবক সিটিজেন জার্নালকে জানান, ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হয়েছে। পরিবারের আরেক শিশু সম্প্রতি একই রোগে মারা যাওয়ায় তিনি আরও আতঙ্কিত।

সব মিলিয়ে, উন্নত চিকিৎসাসেবা থাকা সত্ত্বেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতালটি এখন শয্যা সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আইসিইউ শয্যার অভাব গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
হাসপাতালের ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় মেঝেতে বিছানা পেতে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

এদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান সিটিজেন জার্নালকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭৪৫ জন হামে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২২ জন এবং সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ মোট ২৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে। বাকিগুলো সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত।

ডা. আসমা খান বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে আইসিইউ ও এসডিইউ মিলিয়ে মোট ১২টি শয্যা রয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় মৃত্যুর হার বেশি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ১০ জন সন্দেহভাজন এবং ১ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন।

/এসএ/