শিরোনাম

মাথা আলাদা, তবু বেঁচে থাকা: সি স্লাগের বিস্ময়কর পুনর্জন্ম

সিটিজেন ডেস্ক
মাথা আলাদা, তবু বেঁচে থাকা: সি স্লাগের বিস্ময়কর পুনর্জন্ম
একটি সামুদ্রিক স্লাগ। ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতিতে টিকটিকির লেজ ঝরানো বা তারামাছের অঙ্গ পুনর্গঠন নতুন কিছু নয়। কিন্তু মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও আবার সম্পূর্ণ নতুন দেহ গড়ে তোলার মতো ঘটনা এতটাই বিরল যে প্রথমে তা দেখে বিস্মিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরাও।

২০২১ সালে জাপানের একদল গবেষক দেখেন, সাকোগ্লোসান প্রজাতির কিছু সামুদ্রিক স্লাগ নিজেরাই মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। আশ্চর্যের বিষয়, বিচ্ছিন্ন সেই মাথা পরে আবার নতুন করে পুরো শরীর তৈরি করে ফেলে। নতুন শরীরের সঙ্গে গড়ে ওঠে হৃদ্‌যন্ত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অঙ্গও।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ স্লাগের বিচ্ছিন্ন মাথা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার শৈবাল খেতে শুরু করে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন হৃদ্‌যন্ত্র গঠনের লক্ষণ দেখা যায়। আর ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ নতুন শরীর তৈরি হয়ে যায়।

একটি সামুদ্রিক স্লাগের শরীর থেকেমাথা আলাদা করেছে বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
একটি সামুদ্রিক স্লাগের শরীর থেকেমাথা আলাদা করেছে বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে, যে শরীরটি মাথাবিহীন অবস্থায় থেকে যায়, তা কিছুদিন নড়াচড়া করলেও আর নতুন মাথা গজাতে পারে না। ফলে শেষ পর্যন্ত সেটি মারা যায়।

প্রশ্ন উঠেছে, এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করে এই প্রাণী? গবেষকদের ধারণা, দেহে বাসা বাঁধা পরজীবী থেকে মুক্তি পেতেই হয়তো তারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করে। অর্থাৎ, এক ধরনের ‘জীবন্ত রিসেট’ কৌশল হিসেবে এটি কাজ করতে পারে।

এই স্লাগের আরেকটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা শৈবাল থেকে ক্লোরোপ্লাস্ট ‘চুরি’ করে নিজেদের শরীরে সংরক্ষণ করতে পারে। ফলে কিছুটা উদ্ভিদের মতো আলোর শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতাও অর্জন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষমতাই বিচ্ছিন্ন মাথাকে নতুন শরীর গজানো পর্যন্ত টিকে থাকতে সহায়তা করে।

তবে গবেষকেরা এটিকে এখনো সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখছেন; বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

/এসএ/