মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ইসলামাবাদ, মাস্কাট এবং মস্কো সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি এই সফরগুলোকে ‘সময়োপযোগী কূটনৈতিক উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, এসব সফর ইরানের বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মস্কো সফরটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তার মতে, তেহরান এখন জাতিসংঘে অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন চাইতে পারে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরান রাশিয়ার কাছে চাপ তৈরি করতে পারে যাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি প্রস্তাব আনা হয়, যা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন না হওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।
এছাড়া সামরিক সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহ সংক্রান্ত আলোচনার ইঙ্গিতও রয়েছে।
তবে এসব কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা বা প্রস্তুতি দেখাচ্ছে না।
ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও তেহরান-ওয়াশিংটন সংকটের সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা