শিরোনাম

চাঁদের নমুনা থেকে নতুন দুটি খনিজ আবিষ্কার চীনের

সিটিজেন ডেস্ক
চাঁদের নমুনা থেকে নতুন দুটি খনিজ আবিষ্কার চীনের
ক্লজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

চীনের চ্যাং'ই-৫ মিশনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আনা চাঁদের নমুনা থেকে নতুন দুটি চন্দ্র-খনিজ আবিষ্কার করেছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। ২০২২ সালে প্রথম চন্দ্র-খনিজ চেঞ্জেসাইট (ওয়াই) আবিষ্কারের পর এটি তাদের সর্বশেষ সাফল্য।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চীনের সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদুতে আয়োজিত ২০২৬ সালের স্পেস ডে অফ চায়নার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন আবিষ্কৃত খনিজ দুটির কথা ঘোষণা করে চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ)। ম্যাগনেসিওচেঞ্জেসাইট (ওয়াই) এবং চেঞ্জেসাইট (সিই) নামের খনিজ দুটি ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল মিনারেলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের কমিশন অন নিউ মিনারেলস, নোমেনক্লেচার অ্যান্ড ক্লাসিফিকেশন (সিএনএমএনসি) কর্তৃক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঁদের নমুনা থেকে আবিষ্কৃত নতুন খনিজের মোট সংখ্যা দাঁড়াল আটটিতে।

চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশনের (সিএনএনসি) প্রধান বিজ্ঞানী লি জিয়িংয়ের নেতৃত্বাধীন একটি দল ম্যাগনেসিওচেঞ্জেসাইট (ওয়াই) খনিজটি আবিষ্কার করেছে। ২০২০ সালে চ্যাং'ই-৫ মিশনের আনা নমুনার ব্যাসল্টিক ভগ্নাংশে এটি পাওয়া যায়। ক্যালসিয়াম ও বিরল মৃত্তিকা উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত ফসফেট গ্রুপের এ খনিজটি মানুষের চুলের চেয়েও বহুগুণ সরু, যার আকার মাত্র ২ থেকে ৩০ মাইক্রোমিটার। খালি চোখে অদৃশ্য এ স্ফটিক নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের জন্য চরম শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিজ্ঞতা ছিল। সিএনএনসির বেইজিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ ইউরেনিয়াম জিওলজির উপ-পরিচালক গে জিয়াংকুন জানান, নমুনার কণাগুলো এতোটাই ক্ষুদ্র ছিল যে নিশ্বাসের বাতাসে তা উড়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। তাই ফোকাসড আয়ন বিম স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মাইক্রোমিটার স্তরে কেটে এই স্ফটিকটি আলাদা করে এর অভিনব গঠন বিশ্লেষণ করা হয়।

অন্যদিকে, চাইনিজ একাডেমি অফ জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের (সিএজিএস) গবেষক ওয়াং ইয়ানজুয়ানের হাত ধরে আবিষ্কৃত হয় মেরিলিট গ্রুপের খনিজ চেঞ্জেসাইট-(সিই), হালকা বিরল মৃত্তিকা উপাদান সেরিয়াম দিয়ে সমৃদ্ধ। এ আবিষ্কারটি ছিল আরও চমকপ্রদ, কারণ এটি চ্যাং'ই-৫ এর নমুনার পাশাপাশি ২০২৪ সালে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের তাকলামাকান মরুভূমিতে পাওয়া একটি চন্দ্র-উল্কাতেও শনাক্ত হয়েছে। সিএজিএসের পরিচালক হাউ জেংকিয়ান জানান, পৃথিবী, মঙ্গল বা গ্রহাণুতে পাওয়া মেরিলিট গ্রুপের খনিজের চেয়ে এ চন্দ্র-খনিজটির বৈশিষ্ট্য বেশ আলাদা। এ বৈশিষ্ট্যই একে চাঁদের নিজস্ব খনিজ হিসেবে অনন্যতা দিয়েছে।

এর আগে মার্কিন বিজ্ঞানীরা অ্যাপোলো মিশনে পাওয়া নমুনায় ভারী বিরল মৃত্তিকা উপাদানের উপস্থিতি পেয়েছিলেন, তবে চ্যাং'ই-৫ এর নমুনায় এ হালকা উপাদানের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে চাঁদের ম্যাগমা বিবর্তনের সময় এদের আচরণে ব্যাপক পার্থক্য ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার ফসল এ যুগান্তকারী আবিষ্কারগুলো চাঁদের সৃষ্টি, বিবর্তন, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং এর ভূতাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে মানুষের জানাশোনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

সূত্র: সিনহুয়া

/এমএকে/