ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ ইসরায়েলি নিহত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ ইসরায়েলি নিহত
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদেন বলা হয়, ঘটনাস্থলে গতকাল রাতের পর সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালেও তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছিল।


ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা কুদস ফোর্সের অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোপন ইউনিটের এক নেতাকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী আইআরজিসির গোপন ইউনিটের নেতা আসগার বাকেরিকে হত্যা করেছে।

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হামলায় নতুন করে আহত হয়েছেন ৫ জন।

ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ হুমকির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

রাজধানীর বাইরে কারাজ, তেহরান, শিরাজ, ইসফাহান ও বুশেহরসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদেন বলা হয়, ঘটনাস্থলে গতকাল রাতের পর সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালেও তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছিল।

ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ টিকভায় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৩৪ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইয়েনেট নিউজ।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে একটি বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৯৭তম ধাপের অংশ হিসেবে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকালে এ হামলা চালানো হয়।

হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু ওবাইদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দলটির নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানানো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি গণহত্যা অব্যাহত রাখার একটি অপচেষ্টা মাত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহারেস্তান জেলার কালে মির শহরের দুটি আবাসিক ভবনে বোমা হামলা চালানো হয়, যার ফলে এই হতাহত।

রবিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আর কখনোই তার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।

রবিবার (৫ এপ্রিল) ইস্টার সানডের দিন দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুত জুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে ইসরায়েলকে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে না ফ্রান্স।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের জন্য বিপজ্জনক।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ‘লক্ষ্যবস্তুর তালিকা’ অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

ইরানে হামলার জন্য ইসরায়েলের কাছে ২০ হাজারের বেশি বোমা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এসব অস্ত্রের মোট মূল্য প্রায় ৬৬০ মিলিয়ন বা ৬৬ কোটি ডলার। এছাড়া ইসরায়েলে নতুন করে ১৫১.৭ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফরাসি লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান সিএমএ সিজিএমের মালিকানাধীন মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘ক্রিবি’ ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর পারস্য উপসাগর ত্যাগকারী প্রথম পশ্চিমা জাহাজ।

ইরান থেকে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঢেউ আসছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তারা বলেছে, দেশের দিকে ধেয়ে আসা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি। হামলায় পুরো গাজা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিপর্যয়ের কারণে বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। এর মধ্যেও কেউ কেউ চরম ঝুঁকি ও উচ্চমূল্য দিয়ে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন।

মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানজুড়ে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি পশ্চিম গ্যালিলি, হাইফা এবং কাফর কান্নায় ইসরায়েলের ‘যুদ্ধ সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে’ হামলা চালানোর দাবি করেছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক কর্পোরেশন রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ আরআইএকে বলেন, ‘যাত্রাপথ সম্পর্কিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কনভয়ের চলাচলের সময় কঠোরভাবে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য আমরা সব চ্যানেল ব্যবহার করব।’









