নয়াবাজারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে বিয়ে বাড়ির খাবার

নয়াবাজারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে বিয়ে বাড়ির খাবার
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা নয়াবাজার। দিনের বেলা যানজট আর কোলাহলে ভরা এই এলাকায় দুপুর গড়াতেই ফুটপাতে ভিন্ন এক দৃশ্য চোখে পড়ে। সারি সারি করে সাজানো বাটি, তাতে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, খাসির রেজালা, এমনকি মাছও। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কোনো ছোটখাটো বুফের আয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মূলত বিভিন্ন বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া খাবার, যা পরে কম দামে বিক্রি হয় সাধারণ মানুষের কাছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, বিকালের পর থেকেই নয়াবাজার ওভার ব্রিজের সামনে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভিড় জমতে শুরু করে। পুরনো ভ্যানের ওপর বড় পাত্র থেকে খাবার নামিয়ে ফুটপাতের উপর বাটিতে সাজানো হয়। গরম মশলার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, আর সেই ঘ্রাণেই আকৃষ্ট হয়ে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, সবারই উপস্থিতি চোখে পড়ে এখানে।
স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব খাবার আসে ঢাকার বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব বা বড় বড় আয়োজন থেকে। অনুষ্ঠান শেষে অবশিষ্ট খাবার বাবুর্চি বা ক্যাটারিং কর্মীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তারা। এরপর সেগুলো বাটি অনুযায়ী ভাগ করে বিক্রি করা হয় তুলনামূলক কম দামে।
দামই এখানে প্রধান আকর্ষণ। বাজার থেকে গরু বা খাসির মাংস কিনতে গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে, সেখানে এই ফুটপাতে অনেক কম টাকায় আমিষ খাবার পাওয়া যায়। একটি মাঝারি বাটিতে মুরগির মাংস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস বড় বাটি ১০০০ টাকা, আর বিরিয়ানি ৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়।
একজন রিকশাচালক বলেন, ‘এখন বাজারে যে দাম, ওই দামে তো মাংস খাওয়া সম্ভব না। আমার উপার্জন কম। এখানে কম দামে খাবার পাই, তাই মাঝে মাঝে নিয়ে যাই।’
শুধু রিকশাচালকই নন, দিনমজুর, ছোট চাকরিজীবী এমনকি শিক্ষার্থীও এই খাবারের ক্রেতা।
তবে বড় প্রশ্ন উঠছে এই খাবারের মান ও সতেজতা নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে একদিন আগে রান্না করা খাবার ফুটপাতে এনে বিক্রি করা হয়। ফলে খাবারের মান কতটা বজায় থাকে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
এছাড়া পরিবেশগত বিষয়ও বড় উদ্বেগের কারণ। খোলা আকাশের নিচে এসব খাবার উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। যানবাহনের ধোঁয়া ও রাস্তার ময়লার মধ্যেই চলছে বেচাকেনা।
বিক্রেতাদের দাবি, খাবার ঢেকে রাখলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্রেতারাও দেখতে না পেলে আগ্রহ হারান। তাই বাধ্য হয়েই খাবার খোলা রাখতে হয়।
তবে এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। তাদের কাছে প্রধান বিষয় কম দামে খাবার পাওয়া। বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও এই খাবার খান, তাই মান নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই অস্থায়ী দোকান মোস্তফা আলীর আয়ের বড় ভরসা। প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন দুপুর হলেই তিনি ফুটপাতের পাশে বসে বিয়ে বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার সাজিয়ে বিক্রি করেন। শুরুটা ছিলো অনেক কষ্টের। বাবার আয় কমে যাওয়ায় সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। ধীরে ধীরে এই ব্যবসাতেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। প্রতিদিনের সামান্য লাভ, কখনো বিক্রি ভালো, কখনো মন্দ, সব মিলিয়েই চলেছে তার সংগ্রাম।
এই আয় দিয়েই তিনি মেয়েকে স্কুলে পড়িয়েছেন, কলেজ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, পরে বিয়ের খরচও জোগাড় করেছেন।
এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়
মোস্তফা ফুটপাতে খাবার বিক্রেতা
মোস্তফা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়। তবু আল্লাহর রহমতে টিকে আছি। সারাদিন খেটে যা পাই, তাই দিয়া সংসার চালাইতে হয়। কম টাকায় মানুষরে খাওয়াইতে পারলে নিজেরও একটা শান্তি লাগে। কষ্ট তো আছেই, কিন্তু এই কাজটাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা হয়ে গেছে।’
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই খাবারের বাজার একদিকে যেমন খাদ্য অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছে, তেমনি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ তৈরি করছে। তবে একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও উপেক্ষা করার মতো নয়। ভোক্তার মতে, যথাযথ তদারকি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা নয়াবাজার। দিনের বেলা যানজট আর কোলাহলে ভরা এই এলাকায় দুপুর গড়াতেই ফুটপাতে ভিন্ন এক দৃশ্য চোখে পড়ে। সারি সারি করে সাজানো বাটি, তাতে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, খাসির রেজালা, এমনকি মাছও। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কোনো ছোটখাটো বুফের আয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মূলত বিভিন্ন বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া খাবার, যা পরে কম দামে বিক্রি হয় সাধারণ মানুষের কাছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, বিকালের পর থেকেই নয়াবাজার ওভার ব্রিজের সামনে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভিড় জমতে শুরু করে। পুরনো ভ্যানের ওপর বড় পাত্র থেকে খাবার নামিয়ে ফুটপাতের উপর বাটিতে সাজানো হয়। গরম মশলার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, আর সেই ঘ্রাণেই আকৃষ্ট হয়ে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, সবারই উপস্থিতি চোখে পড়ে এখানে।
স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব খাবার আসে ঢাকার বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব বা বড় বড় আয়োজন থেকে। অনুষ্ঠান শেষে অবশিষ্ট খাবার বাবুর্চি বা ক্যাটারিং কর্মীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তারা। এরপর সেগুলো বাটি অনুযায়ী ভাগ করে বিক্রি করা হয় তুলনামূলক কম দামে।
দামই এখানে প্রধান আকর্ষণ। বাজার থেকে গরু বা খাসির মাংস কিনতে গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে, সেখানে এই ফুটপাতে অনেক কম টাকায় আমিষ খাবার পাওয়া যায়। একটি মাঝারি বাটিতে মুরগির মাংস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস বড় বাটি ১০০০ টাকা, আর বিরিয়ানি ৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়।
একজন রিকশাচালক বলেন, ‘এখন বাজারে যে দাম, ওই দামে তো মাংস খাওয়া সম্ভব না। আমার উপার্জন কম। এখানে কম দামে খাবার পাই, তাই মাঝে মাঝে নিয়ে যাই।’
শুধু রিকশাচালকই নন, দিনমজুর, ছোট চাকরিজীবী এমনকি শিক্ষার্থীও এই খাবারের ক্রেতা।
তবে বড় প্রশ্ন উঠছে এই খাবারের মান ও সতেজতা নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে একদিন আগে রান্না করা খাবার ফুটপাতে এনে বিক্রি করা হয়। ফলে খাবারের মান কতটা বজায় থাকে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
এছাড়া পরিবেশগত বিষয়ও বড় উদ্বেগের কারণ। খোলা আকাশের নিচে এসব খাবার উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। যানবাহনের ধোঁয়া ও রাস্তার ময়লার মধ্যেই চলছে বেচাকেনা।
বিক্রেতাদের দাবি, খাবার ঢেকে রাখলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্রেতারাও দেখতে না পেলে আগ্রহ হারান। তাই বাধ্য হয়েই খাবার খোলা রাখতে হয়।
তবে এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। তাদের কাছে প্রধান বিষয় কম দামে খাবার পাওয়া। বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও এই খাবার খান, তাই মান নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই অস্থায়ী দোকান মোস্তফা আলীর আয়ের বড় ভরসা। প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন দুপুর হলেই তিনি ফুটপাতের পাশে বসে বিয়ে বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার সাজিয়ে বিক্রি করেন। শুরুটা ছিলো অনেক কষ্টের। বাবার আয় কমে যাওয়ায় সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। ধীরে ধীরে এই ব্যবসাতেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। প্রতিদিনের সামান্য লাভ, কখনো বিক্রি ভালো, কখনো মন্দ, সব মিলিয়েই চলেছে তার সংগ্রাম।
এই আয় দিয়েই তিনি মেয়েকে স্কুলে পড়িয়েছেন, কলেজ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, পরে বিয়ের খরচও জোগাড় করেছেন।
এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়
মোস্তফা ফুটপাতে খাবার বিক্রেতা
মোস্তফা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়। তবু আল্লাহর রহমতে টিকে আছি। সারাদিন খেটে যা পাই, তাই দিয়া সংসার চালাইতে হয়। কম টাকায় মানুষরে খাওয়াইতে পারলে নিজেরও একটা শান্তি লাগে। কষ্ট তো আছেই, কিন্তু এই কাজটাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা হয়ে গেছে।’
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই খাবারের বাজার একদিকে যেমন খাদ্য অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছে, তেমনি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ তৈরি করছে। তবে একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও উপেক্ষা করার মতো নয়। ভোক্তার মতে, যথাযথ তদারকি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

নয়াবাজারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে বিয়ে বাড়ির খাবার
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা নয়াবাজার। দিনের বেলা যানজট আর কোলাহলে ভরা এই এলাকায় দুপুর গড়াতেই ফুটপাতে ভিন্ন এক দৃশ্য চোখে পড়ে। সারি সারি করে সাজানো বাটি, তাতে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, খাসির রেজালা, এমনকি মাছও। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে কোনো ছোটখাটো বুফের আয়োজন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মূলত বিভিন্ন বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া খাবার, যা পরে কম দামে বিক্রি হয় সাধারণ মানুষের কাছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, বিকালের পর থেকেই নয়াবাজার ওভার ব্রিজের সামনে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভিড় জমতে শুরু করে। পুরনো ভ্যানের ওপর বড় পাত্র থেকে খাবার নামিয়ে ফুটপাতের উপর বাটিতে সাজানো হয়। গরম মশলার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে, আর সেই ঘ্রাণেই আকৃষ্ট হয়ে জড়ো হন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, সবারই উপস্থিতি চোখে পড়ে এখানে।
স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব খাবার আসে ঢাকার বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, ক্লাব বা বড় বড় আয়োজন থেকে। অনুষ্ঠান শেষে অবশিষ্ট খাবার বাবুর্চি বা ক্যাটারিং কর্মীদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তারা। এরপর সেগুলো বাটি অনুযায়ী ভাগ করে বিক্রি করা হয় তুলনামূলক কম দামে।
দামই এখানে প্রধান আকর্ষণ। বাজার থেকে গরু বা খাসির মাংস কিনতে গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে, সেখানে এই ফুটপাতে অনেক কম টাকায় আমিষ খাবার পাওয়া যায়। একটি মাঝারি বাটিতে মুরগির মাংস ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, খাসির মাংস বড় বাটি ১০০০ টাকা, আর বিরিয়ানি ৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়।
একজন রিকশাচালক বলেন, ‘এখন বাজারে যে দাম, ওই দামে তো মাংস খাওয়া সম্ভব না। আমার উপার্জন কম। এখানে কম দামে খাবার পাই, তাই মাঝে মাঝে নিয়ে যাই।’
শুধু রিকশাচালকই নন, দিনমজুর, ছোট চাকরিজীবী এমনকি শিক্ষার্থীও এই খাবারের ক্রেতা।
তবে বড় প্রশ্ন উঠছে এই খাবারের মান ও সতেজতা নিয়ে। অনেক ক্ষেত্রে একদিন আগে রান্না করা খাবার ফুটপাতে এনে বিক্রি করা হয়। ফলে খাবারের মান কতটা বজায় থাকে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
এছাড়া পরিবেশগত বিষয়ও বড় উদ্বেগের কারণ। খোলা আকাশের নিচে এসব খাবার উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা হয়। যানবাহনের ধোঁয়া ও রাস্তার ময়লার মধ্যেই চলছে বেচাকেনা।
বিক্রেতাদের দাবি, খাবার ঢেকে রাখলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্রেতারাও দেখতে না পেলে আগ্রহ হারান। তাই বাধ্য হয়েই খাবার খোলা রাখতে হয়।
তবে এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেক ক্রেতা। তাদের কাছে প্রধান বিষয় কম দামে খাবার পাওয়া। বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাও এই খাবার খান, তাই মান নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের প্রয়োজন নেই।
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই অস্থায়ী দোকান মোস্তফা আলীর আয়ের বড় ভরসা। প্রায় ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন দুপুর হলেই তিনি ফুটপাতের পাশে বসে বিয়ে বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার সাজিয়ে বিক্রি করেন। শুরুটা ছিলো অনেক কষ্টের। বাবার আয় কমে যাওয়ায় সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। ধীরে ধীরে এই ব্যবসাতেই অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। প্রতিদিনের সামান্য লাভ, কখনো বিক্রি ভালো, কখনো মন্দ, সব মিলিয়েই চলেছে তার সংগ্রাম।
এই আয় দিয়েই তিনি মেয়েকে স্কুলে পড়িয়েছেন, কলেজ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, পরে বিয়ের খরচও জোগাড় করেছেন।
এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়
মোস্তফা ফুটপাতে খাবার বিক্রেতা
মোস্তফা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই ফুটপাত না থাকলে হয়তো মেয়ের বিয়াটা ঠিকমতো দিতে পারতাম না। তবে এখন বিক্রি আর আগের মতো হয় না। পুলিশও ঝামেলা করে। সংসারে অনেক কষ্ট, অভাব-অনটনের ভেতরেই দিন যায়। তবু আল্লাহর রহমতে টিকে আছি। সারাদিন খেটে যা পাই, তাই দিয়া সংসার চালাইতে হয়। কম টাকায় মানুষরে খাওয়াইতে পারলে নিজেরও একটা শান্তি লাগে। কষ্ট তো আছেই, কিন্তু এই কাজটাই এখন আমাদের বাঁচার ভরসা হয়ে গেছে।’
নয়াবাজারের ফুটপাতের এই খাবারের বাজার একদিকে যেমন খাদ্য অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছে, তেমনি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ তৈরি করছে। তবে একই সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও উপেক্ষা করার মতো নয়। ভোক্তার মতে, যথাযথ তদারকি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ আরও নিরাপদ ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।




