শিরোনাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তির পথে ইসরায়েলই ‘বড় বাধা’

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তির পথে ইসরায়েলই ‘বড় বাধা’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তির পথে ইসরায়েলই বড় বাধা। ছবি: এআই

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা থেকে শনিবার (১১ এপ্রিল) কোনো বড় সাফল্যের প্রত্যাশা না থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে খসড়া প্রস্তাব বিনিময়কে একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, এ আলোচনার অংশ হিসেবে ইসরায়েল লেবাননে তাদের বর্বরোচিত হামলা কমিয়ে আনতে পারে, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আটকে থাকা তাদের জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

হরমুজ প্রণালির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো এখনো বড় বাধা হয়ে থাকায় দুই পক্ষ বিস্তারিত না জানানো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত উদযাপনে যেতে নারাজ সংশ্লিষ্ট মহল। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক রাতারাতি ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝপথেই ইসরায়েলকে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট অত্যন্ত প্রকট। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈরিতার এ ধারা স্থায়ী করার প্রয়োজন নেই। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের চিন্তা ত্যাগ করতে হবে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে।

অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। ওমানের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক ইস্যুতে যে অগ্রগতি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তা থমকে গেলেও সম্মানজনক আচরণের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা যেতে পারে।

তবে শান্তি প্রক্রিয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে তাদের লবিস্টদের প্রভাবকে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ আলোচনার পরও তারা ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি ইসরায়েলের সাজানো যুদ্ধে শরিক হবে নাকি ইরানের সাথে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করবে।

মূলত পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সহযোগিতায় চলমান এ উত্তেজনা কমানের প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এখন সময় এসেছে উস্কানিদাতাদের উপেক্ষা করে আলাপ-আলোচনার গতি বজায় রাখার এবং একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।

সূত্র: ডন

/এমএকে/