ল্যাবএইডে অবহেলায় মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ, বিচার চাওয়ায় মাকে হুমকি-ধমকি

ল্যাবএইডে অবহেলায় মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ, বিচার চাওয়ায় মাকে হুমকি-ধমকি
আয়নাল হোসেন

এই ঘটনা প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শাখার ছাত্রী রাইদাহ গালিবাকে ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন মা কানিজ কুলসুম। আশা ছিল সুস্থ মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তাকে ফিরতে হয়েছে মেয়ের লাশ নিয়ে।
কানিজ কুলসুমের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৩ বছর বয়সী রাইদাহ গালিবাকে। ওই সময় তার মেয়ে মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক তার মেয়ের চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও গাফিলতি করেছে। ডেঙ্গুর সঠিক প্রটোকল অনুসরণ না করে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লুইড (তরল) না দিয়ে তার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি আইসিইউ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তার মেয়ের চিকিৎসায় পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করার অভিযোগও করেন তিনি। ভর্তির মাত্র দেড় দিনের মাথায় তার মেয়ের মৃত্যু হয়। মেয়েকে ভর্তির পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা বিস্তারিত সিটিজেন জার্নালকে জানান কানিজ কুলসুম।
চিকিৎসায় অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে কানিজ কুলসুম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ঘটনার এত দিন পরেও তিনি ন্যায়বিচার পাননি। উপরন্তু ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিএমডিসিতে শুনানির নামে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কানিজ কুলসুম। এ ছাড়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাইদাহ গালিবার এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএমডিসিতে লিখিত অভিযোগ দেন তার মা কানিজ কুলসুম। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির শুনানিতে যান তিনি। কিন্তু সেখানে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ও ১১ জুন শুনানিতে তাকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের প্রভাবে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির আচরণ শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক ছিল।
কানিজ কুলসুমের দাবি, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক চিকিৎসার ভুয়া ও ঘষামাজা করা নথিপত্র, ভুয়া ফ্লুইড চার্ট এবং ইমার্জেন্সির বানোয়াট বিল জমা দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ২২ মে শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে কানিজ কুলসুম বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘‘রুমের ঢোকার পরপরই কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য ও চিকিৎসক আমাকে উচ্চস্বরে ধমকাতে শুরু করেন। তিনি গর্জন করতে করতে বলেন, ‘‘আমি পূর্বের কোনো বক্তব্য বলতে পারবো না।’’ যদি নতুন কিছু বলার থাকে যেন এক মিনিটের মধ্যে বলে বেরিয়ে যাই।’’’
কানিজ কুলসুম আরও অভিযোগ করেন, যখনই তিনি চিকিৎসায় গাফিলতি ও অপর্যাপ্ত ফ্লুইড বিলের প্রমাণ দেখাতে চেয়েছেন, তখনই বিএমডিসির তদন্ত কমিটির এক সদস্য তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছে , ‘এসব কে দেখতে চেয়েছে?’। এ সময় বিএমডিসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির ওই প্রভাবশালী সদস্যকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন এবং বাকিরা নীরব ছিলেন।
কানিজ কুলসুম দাবি করেন, বিএমডিসির শীর্ষ পর্যায় থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাকে বার বার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তাকে সরাসরি চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং থেমে না গেলে তার ‘ক্ষতি হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিএমডিসির তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন কানিজ কুলসুম। তিনি এ বিষয়ে গত বছরের ১৫ জুন বিএমডিসির সভাপতির কাছে একটি আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আকুতি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ল্যাবএইড হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে কোনো গাফিলতি হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর সেগুলো খাতায় এন্টি করা হয়। নিয়ম এবং সিরিয়াল অনুযায়ী সেটি তদন্ত করে দেখা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করলে তারাও বিষয়টি বিষয় খতিয়ে দেখতে একাধিক মিটিং করেন। সবকিছু সিস্টেম অনুযায়ী চলছে।’
এই বিষয়ে রাইদার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার এই প্রতিবেদক তার বর্তমান কর্মস্থল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। উপাচার্যের কক্ষে ঢুকতে চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদক পরিচয় দেওয়ার পর পিএ বলেন, ‘আপনি স্যারের পিএসের কাছে যান। তিনি স্যারের অনুমোদন নিয়ে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন।’ পরে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ মো. লুৎফর রহমানের কক্ষে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি কী উদ্দেশ্য এসেছেন তা কী জানতে পারি? কথা বলার উদ্দেশ্য জানালে লুৎফর রহমান উপাচার্যের কক্ষে যান। কিন্তু ছয় মিনিট পরে ফিরে এসে বলেন, ‘স্যার এই বিষয়ে এখানে কোনো কথা বলবেন না। আপনাকে ল্যাবএইডে কথা বলতে বলেছেন।’ এ প্রতিবেদক তখন ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ লুৎফর রহমানের মোবাইলে কল দেওয়া হয় এবং ল্যাবএইডে গেলে উপাচার্য কথা বলবেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, স্যার কথা বলবেন না। স্যার বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় কথা বলতে কেনো সে (এই প্রতিবেদক) এখানে এসেছে?’
এই বিষয়ে জানতে ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীমের মুঠোফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। পরে তার মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু ওই খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।
স্কুলছাত্রী রাইদাহ গালিবার মৃত্যু এবং এই ঘটনার বিচারের আশায় তার মায়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিএমডিসিতে ঘুরে বেড়ানোর এই ঘটনা সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অথচ চিকিৎসায় অবহেলা, গাফিলতি বা ভুলের কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু রাইদাহের মৃত্যুর অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না করতে পারার বিষয়টি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অনেক কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএমডিসির এই গাফিলতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘বিএমডিসিতে কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তখন বাদী ও বিবাদীর শুনানি গ্রহণ করতে হয়। শুনানি শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন কাউন্সিল কমিটির কাছে পাঠায়। কাউন্সিল তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু ওই শিশুটির মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিএমডিসি কেন এমনটি করল সেটি বোধগম্য নয়।’

এই ঘটনা প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শাখার ছাত্রী রাইদাহ গালিবাকে ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন মা কানিজ কুলসুম। আশা ছিল সুস্থ মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তাকে ফিরতে হয়েছে মেয়ের লাশ নিয়ে।
কানিজ কুলসুমের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৩ বছর বয়সী রাইদাহ গালিবাকে। ওই সময় তার মেয়ে মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক তার মেয়ের চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও গাফিলতি করেছে। ডেঙ্গুর সঠিক প্রটোকল অনুসরণ না করে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লুইড (তরল) না দিয়ে তার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি আইসিইউ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তার মেয়ের চিকিৎসায় পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করার অভিযোগও করেন তিনি। ভর্তির মাত্র দেড় দিনের মাথায় তার মেয়ের মৃত্যু হয়। মেয়েকে ভর্তির পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা বিস্তারিত সিটিজেন জার্নালকে জানান কানিজ কুলসুম।
চিকিৎসায় অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে কানিজ কুলসুম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ঘটনার এত দিন পরেও তিনি ন্যায়বিচার পাননি। উপরন্তু ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিএমডিসিতে শুনানির নামে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কানিজ কুলসুম। এ ছাড়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাইদাহ গালিবার এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএমডিসিতে লিখিত অভিযোগ দেন তার মা কানিজ কুলসুম। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির শুনানিতে যান তিনি। কিন্তু সেখানে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ও ১১ জুন শুনানিতে তাকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের প্রভাবে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির আচরণ শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক ছিল।
কানিজ কুলসুমের দাবি, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক চিকিৎসার ভুয়া ও ঘষামাজা করা নথিপত্র, ভুয়া ফ্লুইড চার্ট এবং ইমার্জেন্সির বানোয়াট বিল জমা দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ২২ মে শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে কানিজ কুলসুম বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘‘রুমের ঢোকার পরপরই কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য ও চিকিৎসক আমাকে উচ্চস্বরে ধমকাতে শুরু করেন। তিনি গর্জন করতে করতে বলেন, ‘‘আমি পূর্বের কোনো বক্তব্য বলতে পারবো না।’’ যদি নতুন কিছু বলার থাকে যেন এক মিনিটের মধ্যে বলে বেরিয়ে যাই।’’’
কানিজ কুলসুম আরও অভিযোগ করেন, যখনই তিনি চিকিৎসায় গাফিলতি ও অপর্যাপ্ত ফ্লুইড বিলের প্রমাণ দেখাতে চেয়েছেন, তখনই বিএমডিসির তদন্ত কমিটির এক সদস্য তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছে , ‘এসব কে দেখতে চেয়েছে?’। এ সময় বিএমডিসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির ওই প্রভাবশালী সদস্যকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন এবং বাকিরা নীরব ছিলেন।
কানিজ কুলসুম দাবি করেন, বিএমডিসির শীর্ষ পর্যায় থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাকে বার বার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তাকে সরাসরি চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং থেমে না গেলে তার ‘ক্ষতি হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিএমডিসির তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন কানিজ কুলসুম। তিনি এ বিষয়ে গত বছরের ১৫ জুন বিএমডিসির সভাপতির কাছে একটি আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আকুতি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ল্যাবএইড হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে কোনো গাফিলতি হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর সেগুলো খাতায় এন্টি করা হয়। নিয়ম এবং সিরিয়াল অনুযায়ী সেটি তদন্ত করে দেখা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করলে তারাও বিষয়টি বিষয় খতিয়ে দেখতে একাধিক মিটিং করেন। সবকিছু সিস্টেম অনুযায়ী চলছে।’
এই বিষয়ে রাইদার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার এই প্রতিবেদক তার বর্তমান কর্মস্থল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। উপাচার্যের কক্ষে ঢুকতে চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদক পরিচয় দেওয়ার পর পিএ বলেন, ‘আপনি স্যারের পিএসের কাছে যান। তিনি স্যারের অনুমোদন নিয়ে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন।’ পরে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ মো. লুৎফর রহমানের কক্ষে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি কী উদ্দেশ্য এসেছেন তা কী জানতে পারি? কথা বলার উদ্দেশ্য জানালে লুৎফর রহমান উপাচার্যের কক্ষে যান। কিন্তু ছয় মিনিট পরে ফিরে এসে বলেন, ‘স্যার এই বিষয়ে এখানে কোনো কথা বলবেন না। আপনাকে ল্যাবএইডে কথা বলতে বলেছেন।’ এ প্রতিবেদক তখন ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ লুৎফর রহমানের মোবাইলে কল দেওয়া হয় এবং ল্যাবএইডে গেলে উপাচার্য কথা বলবেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, স্যার কথা বলবেন না। স্যার বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় কথা বলতে কেনো সে (এই প্রতিবেদক) এখানে এসেছে?’
এই বিষয়ে জানতে ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীমের মুঠোফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। পরে তার মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু ওই খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।
স্কুলছাত্রী রাইদাহ গালিবার মৃত্যু এবং এই ঘটনার বিচারের আশায় তার মায়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিএমডিসিতে ঘুরে বেড়ানোর এই ঘটনা সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অথচ চিকিৎসায় অবহেলা, গাফিলতি বা ভুলের কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু রাইদাহের মৃত্যুর অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না করতে পারার বিষয়টি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অনেক কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএমডিসির এই গাফিলতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘বিএমডিসিতে কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তখন বাদী ও বিবাদীর শুনানি গ্রহণ করতে হয়। শুনানি শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন কাউন্সিল কমিটির কাছে পাঠায়। কাউন্সিল তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু ওই শিশুটির মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিএমডিসি কেন এমনটি করল সেটি বোধগম্য নয়।’

ল্যাবএইডে অবহেলায় মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ, বিচার চাওয়ায় মাকে হুমকি-ধমকি
আয়নাল হোসেন

এই ঘটনা প্রায় সাড়ে তিন বছর আগের। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শাখার ছাত্রী রাইদাহ গালিবাকে ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন মা কানিজ কুলসুম। আশা ছিল সুস্থ মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরবেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তাকে ফিরতে হয়েছে মেয়ের লাশ নিয়ে।
কানিজ কুলসুমের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ১৩ বছর বয়সী রাইদাহ গালিবাকে। ওই সময় তার মেয়ে মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর অধীনে চিকিৎসাধীন ছিল। ভর্তির পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক তার মেয়ের চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও গাফিলতি করেছে। ডেঙ্গুর সঠিক প্রটোকল অনুসরণ না করে এবং প্রয়োজনীয় ফ্লুইড (তরল) না দিয়ে তার মেয়েকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি আইসিইউ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে তার মেয়ের চিকিৎসায় পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করার অভিযোগও করেন তিনি। ভর্তির মাত্র দেড় দিনের মাথায় তার মেয়ের মৃত্যু হয়। মেয়েকে ভর্তির পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা বিস্তারিত সিটিজেন জার্নালকে জানান কানিজ কুলসুম।
চিকিৎসায় অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে কানিজ কুলসুম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু ঘটনার এত দিন পরেও তিনি ন্যায়বিচার পাননি। উপরন্তু ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিএমডিসিতে শুনানির নামে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কানিজ কুলসুম। এ ছাড়া অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাইদাহ গালিবার এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বিএমডিসিতে লিখিত অভিযোগ দেন তার মা কানিজ কুলসুম। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির শুনানিতে যান তিনি। কিন্তু সেখানে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল ও ১১ জুন শুনানিতে তাকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের প্রভাবে বিএমডিসির তদন্ত কমিটির আচরণ শুরু থেকেই পক্ষপাতমূলক ছিল।
কানিজ কুলসুমের দাবি, ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক চিকিৎসার ভুয়া ও ঘষামাজা করা নথিপত্র, ভুয়া ফ্লুইড চার্ট এবং ইমার্জেন্সির বানোয়াট বিল জমা দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত কমিটি বিষয়গুলো আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের ২২ মে শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে কানিজ কুলসুম বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘‘রুমের ঢোকার পরপরই কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য ও চিকিৎসক আমাকে উচ্চস্বরে ধমকাতে শুরু করেন। তিনি গর্জন করতে করতে বলেন, ‘‘আমি পূর্বের কোনো বক্তব্য বলতে পারবো না।’’ যদি নতুন কিছু বলার থাকে যেন এক মিনিটের মধ্যে বলে বেরিয়ে যাই।’’’
কানিজ কুলসুম আরও অভিযোগ করেন, যখনই তিনি চিকিৎসায় গাফিলতি ও অপর্যাপ্ত ফ্লুইড বিলের প্রমাণ দেখাতে চেয়েছেন, তখনই বিএমডিসির তদন্ত কমিটির এক সদস্য তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছে , ‘এসব কে দেখতে চেয়েছে?’। এ সময় বিএমডিসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির ওই প্রভাবশালী সদস্যকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন এবং বাকিরা নীরব ছিলেন।
কানিজ কুলসুম দাবি করেন, বিএমডিসির শীর্ষ পর্যায় থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তাকে বার বার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ প্রত্যাহার করতে তাকে সরাসরি চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং থেমে না গেলে তার ‘ক্ষতি হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে বিএমডিসির তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন কানিজ কুলসুম। তিনি এ বিষয়ে গত বছরের ১৫ জুন বিএমডিসির সভাপতির কাছে একটি আবেদন করেছেন। সেখানে তিনি বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আকুতি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ল্যাবএইড হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগের তদন্তে কোনো গাফিলতি হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর সেগুলো খাতায় এন্টি করা হয়। নিয়ম এবং সিরিয়াল অনুযায়ী সেটি তদন্ত করে দেখা হয়। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করলে তারাও বিষয়টি বিষয় খতিয়ে দেখতে একাধিক মিটিং করেন। সবকিছু সিস্টেম অনুযায়ী চলছে।’
এই বিষয়ে রাইদার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার এই প্রতিবেদক তার বর্তমান কর্মস্থল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। উপাচার্যের কক্ষে ঢুকতে চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয় জানতে চান। প্রতিবেদক পরিচয় দেওয়ার পর পিএ বলেন, ‘আপনি স্যারের পিএসের কাছে যান। তিনি স্যারের অনুমোদন নিয়ে আপনাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন।’ পরে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ মো. লুৎফর রহমানের কক্ষে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি কী উদ্দেশ্য এসেছেন তা কী জানতে পারি? কথা বলার উদ্দেশ্য জানালে লুৎফর রহমান উপাচার্যের কক্ষে যান। কিন্তু ছয় মিনিট পরে ফিরে এসে বলেন, ‘স্যার এই বিষয়ে এখানে কোনো কথা বলবেন না। আপনাকে ল্যাবএইডে কথা বলতে বলেছেন।’ এ প্রতিবেদক তখন ফিরে আসেন। সন্ধ্যার দিকে উপাচার্যের একান্ত সচিব–২ লুৎফর রহমানের মোবাইলে কল দেওয়া হয় এবং ল্যাবএইডে গেলে উপাচার্য কথা বলবেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, স্যার কথা বলবেন না। স্যার বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় কথা বলতে কেনো সে (এই প্রতিবেদক) এখানে এসেছে?’
এই বিষয়ে জানতে ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীমের মুঠোফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। পরে তার মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু ওই খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি তিনি।
স্কুলছাত্রী রাইদাহ গালিবার মৃত্যু এবং এই ঘটনার বিচারের আশায় তার মায়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিএমডিসিতে ঘুরে বেড়ানোর এই ঘটনা সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অথচ চিকিৎসায় অবহেলা, গাফিলতি বা ভুলের কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু রাইদাহের মৃত্যুর অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার না করতে পারার বিষয়টি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অনেক কমিয়ে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএমডিসির এই গাফিলতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘বিএমডিসিতে কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তখন বাদী ও বিবাদীর শুনানি গ্রহণ করতে হয়। শুনানি শেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন কাউন্সিল কমিটির কাছে পাঠায়। কাউন্সিল তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু ওই শিশুটির মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিএমডিসি কেন এমনটি করল সেটি বোধগম্য নয়।’




