শিরোনাম

মায়ের কাছ থেকে যেসব বৈশিষ্ট্য পায় সন্তানেরা

সাবিকুন নাহার রিংকি
মায়ের কাছ থেকে যেসব বৈশিষ্ট্য পায় সন্তানেরা
শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত বিকাশে মায়ের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবি : সংগৃহীত

মা ও সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ও নিবিড় সম্পর্কগুলোর একটি। শুধু জন্মই নয়, একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আচরণগত বিকাশে মায়ের প্রভাব অপরিসীম। জিনগত ও পরিবেশগত দুই দিক থেকেই মা সন্তানের মধ্যে নানা বৈশিষ্ট্য গড়ে তোলেন। নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো মায়ের কাছ থেকে সন্তানেরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পেয়ে থাকে।
শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য
সন্তানের চোখের রং, চুলের গঠন, ত্বকের রং, উচ্চতা ইত্যাদি অনেকটাই মায়ের জিন থেকে আসে। বিশেষ করে মায়ের জিনগত প্রভাব অনেক সময় বেশি দৃশ্যমান হয়।
বুদ্ধিমত্তা
বিজ্ঞানীদের মতে, শিশুর বুদ্ধিমত্তা অনেকাংশে মায়ের জিনের ওপর নির্ভর করে। কারণ বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত জিনগুলো এক্স ক্রোমোজোমের মাধ্যমে আসে, যা মায়ের কাছ থেকেই বেশি প্রাপ্ত হয়।
আবেগ ও মানসিকতা
মায়ের আচরণ, আবেগ প্রকাশের ধরন ও মানসিক স্থিতি সন্তানের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। মা যদি শান্ত ও ধৈর্যশীল হন, সন্তানও সাধারণত তেমনই হয়।
ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা
শিশু প্রথম কথা বলা, শব্দ শেখা ও যোগাযোগের কৌশল শেখে মায়ের কাছ থেকেই। মায়ের সাথে নিয়মিত কথা বলার মাধ্যমে শিশুর ভাষাগত দক্ষতা উন্নত হয়।
খাদ্যাভ্যাস ও রুচি
মায়ের খাদ্যাভ্যাস সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। মা যে ধরনের খাবার খেতে অভ্যস্ত, সন্তানও অনেক সময় সেই রুচি অনুসরণ করে।
সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধ
সন্তান মায়ের কাছ থেকে শিষ্টাচার, সহানুভূতি, সম্মানবোধ, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি শেখে। মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ
মায়ের ভালোবাসা ও যত্ন শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ গড়ে তোলে। মায়ের সাপোর্ট পেলে শিশু নিজের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
স্ট্রেস মোকাবিলার ক্ষমতা
মা কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করেন, তা দেখে সন্তানও শেখে। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য রাখা ও সমাধান খোঁজার প্রবণতা মায়ের কাছ থেকেই আসে।
স্বাস্থ্যগত প্রবণতা
কিছু রোগ বা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি (যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ) মায়ের জিনের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে আসতে পারে।
সৃজনশীলতা ও প্রতিভা
গান, নাচ, আঁকা বা অন্য কোনো সৃজনশীল দক্ষতা অনেক সময় মায়ের কাছ থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে আসে বা তার অনুপ্রেরণায় বিকশিত হয়।

সন্তানের জীবনে মায়ের ভূমিকা শুধু জন্মদানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার প্রতিটি ধাপে মায়ের প্রভাব গভীরভাবে কাজ করে। জিনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মায়ের লালন-পালন, আচরণ ও শিক্ষা সন্তানের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই একটি সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক মানুষ গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা অপরিহার্য।

/এসএনআর/