শিরোনাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট

সিটিজেন ডেস্ক
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনে যাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে এবার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

সংসদে দাবি জানানো, মুলতবি প্রস্তাব দেওয়া ও ওয়াকআউটের পর এখন রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলীয় জোট। আন্দোলনের রূপরেখায় সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, জনমত গঠনে সভা-সেমিনার, প্রচারপত্র বিলি ও গণসংযোগের মতো কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদের ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও দলটির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় শপথটি নেননি। ফলে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়াটি থমকে আছে।

বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া মুলতবি প্রস্তাবগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং জুলাই সনদের বাস্তব অগ্রগতি নেই। উপরন্তু, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ২০টির কার্যকারিতা বাতিল করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বিরোধী দলের মতে, এটি সংস্কারের বিপক্ষে সরকারের অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রমাণ।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর ৪ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনের সূচনা করে ১১-দলীয় জোট। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জানান, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্যই তারা সংসদ থেকে রাজপথে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় ৭ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, তাদের এ আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস হবে এবং এর মূল লক্ষ্য সংস্কারের বিষয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক জনমত গঠন করা।

জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নই এখন তাদের প্রধান দাবি। তিনি শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আন্দোলনের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি ১১-দলীয় এই ঐক্যকে একটি স্থায়ী নির্বাচনী জোটে রূপান্তর করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

এদিকে জোটের কর্মসূচির পাশাপাশি দলীয়ভাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং জামায়াতের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে পৃথক গণসমাবেশ, সেমিনার ও বিক্ষোভ পালন করে যাচ্ছে। সরকারের কথিত গড়িমসির প্রতিবাদে আগামী দিনে এই দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও পাশে পাওয়ার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

/এমএকে/