শিরোনাম

সেচের অভাবে বাড়ছে না পাটের চারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
সেচের অভাবে বাড়ছে না পাটের চারা
সেচ দিতে না পারায় ফেটে চৌচির পাটখেত। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

তীব্র তাপদাহ আর ডিজেল সংকটে সেচ দিতে না পারায় ফরিদপুরে ব্যাহত হচ্ছে পাটের আবাদ। মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে চারা, দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। বাড়ছে না পাটের চারা। চলতি বছর ফলন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যেই চাষিদের ফুয়েল কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। চাষিদের যাতে আবাদে কোনো সমস্যা না হয় সেদিক খেয়াল রাখা হচ্ছে।

সেচ পাম্প। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
সেচ পাম্প। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পদ্মা-বিধৌত ফরিদপুরের মাঠগুলো তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির, সেই খরা খেতেই সোনালী আঁশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে চাষিরা। পানির অভাবে বাড়ছে না পাটের চারা, উল্টো রোদের তীব্রতায় পুড়ে যাচ্ছে কচি পাতা, দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ।

ডিজেল সংকটে খেতে দিতে পারছে না সেচ। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না ডিজেল, খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হলেও কৃষকদের দাবি, বরাদ্দকৃত তেলের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চলতি বছর পাটের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছে চাষিরা।

বাড়ছে না পাট চারা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
বাড়ছে না পাট চারা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

পাটচাষি বেলায়েত হোসেন বলেন, তীব্র তাপদাহ চলছে, এখন সেচ দিতে পারছি না, পাট ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিও নেই, একারণে মাঠজুড়ে পাট ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে।

আরেক চাষি শফিফুল ইসলাম বলেন, সকালে পাম্পে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দুপুর পেরিয়ে বিকাল হয়ে যায় তবুও ডিজেল পাই না। যদিও পাই তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম।

চাষি আব্দুল্লাহ শেখ বলেন, ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে। কার্ড নিয়ে পাম্পে গেলেও ডিজেল ঠিকমতো পাই না, কার্ড দিয়ে কী করব। জমিতে সেচ দিতে না পারায় পাটের আগা মরে যাচ্ছে। এ বছর ফলন ভালো হবে না।

ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা কৃষকদের। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা কৃষকদের। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

মেসার্স রিয়ো ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না আসায় চাষিদের সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে। জেলায় ডিজেলের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে তুলনায় কম পাচ্ছি আমরা। যতটুকু পাচ্ছি সেভাবেই বণ্টন করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, পাট চাষ যেন ব্যাহত না হয়, সেই কারণে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হচ্ছে চাষিদের। পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত জেলা ফরিদপুর। এ জেলার চাষিদের পাট উৎপাদনে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেই কারণে মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।

/এসআর/