শিরোনাম

ট্রাম্পের ওপর ‘বিরক্ত’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

সিটিজেন ডেস্ক
ট্রাম্পের ওপর ‘বিরক্ত’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্য সফরে বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ আল খলিফার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর আমি ‘বিরক্ত’। পাশাপাশি তিনি ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুলনা করছেন।

যুদ্ধবিরতির পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে সফর করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট। আইটিভির সাংবাদিক রবার্ট পেস্টনকে তিনি বলেন, ‘আমি বিরক্ত যে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পুতিন বা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশবাসী জ্বালানির জন্য কষ্ট পাচ্ছে, ব্যবসার খরচও বাড়ছে-কমছে।’

ইসরায়েলের লেবাননে হামলার বিষয়েও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার ভাষায়, এসব হামলা ‘হওয়া উচিত নয়’ এবং ‘অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার’।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির সব তথ্য সবার কাছে নেই, তবে তার মতে এই হামলাগুলো ‘ভুল’।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল দাবি করছে যে লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় পড়ে না, যদিও ইরান বলছে লেবাননও যুদ্ধবিরতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের হামলা ‘অত্যন্ত ক্ষতিকর’ এবং এটি পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

তিনি জানান, এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ‘ভিন্ন’। তিনি লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানান। তার মতে, তা না হলে পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়বে।

ইভেট কুপার আরও বলেন, লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ করা জরুরি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলাও গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

‘আমরা উত্তেজনা বাড়তে দেখতে চাই না। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হোক এবং তা লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করুক,’ যোগ করেন কুপার।

২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলেও বুধবারের (৮ এপ্রিল) হামলা ছিল এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এদিন বিকালে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে মধ্য বৈরুতের ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলের দাবি, এটি ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনীকে নির্মূল করার অভিযান। তবে এই হামলা ছিল নির্বিচার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এতে অন্তত ২০৩ জন নিহত হন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বুধবার রাতে বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করবে না এবং আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাব।’

এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে এই হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দিয়ে দেশটির ‘সভ্যতা ধ্বংস’ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার কথা বলেছিলেন।

ইভেট কুপার বলেন, ‘এই সংঘাতের শুরুতেই আমরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি মনে করি, যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল, এবং এ ধরনের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।’

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক এখনো গভীর ও দীর্ঘদিনের। তার ভাষায়, ‘আমাদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/জেএইচ/