শিরোনাম

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ: সংস্কৃতি নাকি শহুরে প্রথা

সিটিজেন ডেস্ক
পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ: সংস্কৃতি নাকি শহুরে প্রথা
ছবি: সংগৃহীত

তপ্ত রোদের আঁচ আর কালবৈশাখীর ঝাপটা নিয়ে যখন বাংলা নববর্ষের আগমন ঘটে, তখন বাঙালির উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে পান্তা-ইলিশের স্বাদ। গ্রামগঞ্জ ছাড়িয়ে এখন নগরের উচ্চবিত্ত ড্রয়িংরুম পর্যন্ত এই খাবারটি পহেলা বৈশাখের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়– বৈশাখের আবহে পান্তা-ইলিশের এই মেলবন্ধন কি আমাদের শেকড় থেকে আসা কোনো প্রথা, নাকি আধুনিক শহুরে রুচির তৈরি এক কৃত্রিম সংস্কৃতি?

বাস্তবিক অর্থে পান্তা ছিল গ্রামীণ বাংলার কৃষকের খাবার। রাতের বাড়তি ভাত নষ্ট না করে তাতে পানি দিয়ে রাখা হতো, যা পরের দিন সকালে প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠত। তবে এর সাথে ‘ইলিশ’ যুক্ত হওয়ার ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর রমনা বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রচলন শুরু হয় পান্তা-ইলিশের। পরবর্তীতে তা একটি ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়।

পহেল বৈশাখে মাটির সানকিতে লাল মরিচ, পেঁয়াজ আর ভাজা ইলিশের সাথে পান্তা খাওয়ার মধ্যে এক ধরনের ভিন্নধর্মী উৎসবের আমেজ পাওয়া যায়। যা সাধারণ পোলাও-মাংসের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। যদিও ইলিশ বাঙালির প্রিয় মাছ, তবে বৈশাখ মাস ইলিশের বংশবৃদ্ধির সময়। এই সময়ে জাটকা নিধন রোধে সরকারিভাবে ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। যা বর্তমানেও বলবৎ রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে পান্তার সাথে শুঁটকি ভর্তা, বেগুন ভাজি, আলু ভর্তা, কাঁচামরিচ এবং পিঁয়াজই ছিল আসল অনুষঙ্গ। বর্তমানে বাড়িতেও অনেকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পান্তা-ভর্তা দিয়ে বৈশাখ উদযাপনের দিকে ঝুঁকছেন।

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়া কোনো ধর্মীয় বা বাধ্যতামূলক বিধান নয়। বরং এটি একটি ‘সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ’। বৈশাখ মানেই নতুনকে আবাহন করা। তাই খাবারের থালায় ইলিশ থাক বা না থাক। আমাদের উৎসবের মূল সুর হওয়া উচিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাঙালিয়ানা।

/এসবি/