শিরোনাম

ট্রাম্পের শাসনক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক

সিটিজেন ডেস্ক
ট্রাম্পের শাসনক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক
ছবি: সংগৃহীত

ফক্স নিউজের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশের বেশি ভোটার মনে করেন ট্রাম্প প্রশাসন সরকার পরিচালনায় দক্ষ ছিল না। জরিপে উঠে এসেছে, প্রতি দশজন রিপাবলিকানের মধ্যে অন্তত ২ জন এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭০ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৯০ শতাংশই মনে করেন বর্তমান প্রশাসন দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি।

এছাড়া নন-মাগা রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন প্রশাসনের অদক্ষতার পক্ষে মত দিয়েছেন। সার্বিকভাবে ৪৩ শতাংশ মানুষ হোয়াইট হাউসের কর্মদক্ষতাকে ইতিবাচক বললেও এই পরিসংখ্যানকে অস্বাভাবিক বলছেন না বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ মূল্যায়ন মূলত ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের ৪৪ শতাংশ এবং জো বাইডেন প্রশাসনের ২০২২ সালের ৩৮ শতাংশ রেটিংয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বাইডেনের রেটিং ২০২১ সালের ৫১ শতাংশ থেকে কমে গিয়েছিল।

রিপাবলিকান জরিপকারী ড্যারনের মতে, এটি হোয়াইট হাউসের জন্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক না হলেও ভোটারদের মধ্যে সব প্রেসিডেন্টের প্রতিই কঠোর হওয়ার এক ধরণের প্রবণতা দেখা যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ পরিসংখ্যান দেখায় একজন প্রেসিডেন্টের জন্য স্বতন্ত্র ভোটার এবং নিজ দলের সমর্থকদের কাছ থেকেও পূর্ণ সমর্থন পাওয়া কতটা কঠিন।

ইস্যুভিত্তিক মূল্যায়নে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন ইস্যুতে ৪৬ শতাংশ সমর্থন এবং ৫৪ শতাংশ অসমর্থন পেয়েছেন। চীন নীতিতে ৪২ শতাংশ, পররাষ্ট্রনীতিতে ৪০ শতাংশ, ইরান ইস্যুতে ৩৭ শতাংশ এবং অর্থনীতিতে ৩৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এছাড়া সরকারি ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রে তার সমর্থন আরও কমে যথাক্রমে ৩৩ ও ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার একমাত্র ইতিবাচক রেটিং এসেছে সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে, যেখানে ৫৩ শতাংশ ভোটার তাকে সমর্থন করেছেন। বর্তমানে তার সামগ্রিক কর্মক্ষমতাকে সমর্থন করেন ৪২ শতাংশ ভোটার, আর ৫৮ শতাংশই করছেন অসমর্থন; যা গত মার্চ মাসের তুলনায় সামান্য পরিবর্তিত হয়েছে।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জনপ্রিয়তায়ও বড় ধরণের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাজের অনুমোদন ১১ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৪৪ শতাংশে নেমেছে, যেখানে ৫৫ শতাংশ মানুষ তার কাজে অসন্তুষ্ট। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অনুমোদন ১২ পয়েন্ট কমে ৪৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অনুমোদন ১৭ পয়েন্ট কমে ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকেরও বেশি ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না এবং দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিচারবুদ্ধি, মেজাজ ও মানসিক সুস্থতার অভাব রয়েছে তার মধ্যে। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঠিক মেজাজের অভাব রয়েছে। এছাড়া ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তার সঠিক বিচারবুদ্ধির অভাব রয়েছে, বিপরীতে ৪২ শতাংশ তার বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রেখেছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, দশজনের মধ্যে ছয়জনেরও বেশি ভোটার মনে করেন ট্রাম্প সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ নিয়ে চিন্তিত নন। মাত্র ৩৭ শতাংশ মানুষ তাকে সহানুভূতিশীল মনে করেন, যা ২০২৪ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা পর্যাপ্ত নয়। এ হার ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ৭ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জো বাইডেন যখন প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়ান, তখন ৬৫ শতাংশ মানুষ তার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতেন। দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের প্রায় ৯০ শতাংশই ট্রাম্পের অযোগ্যতার কথা বলেছেন। বিপরীতে মাগা রিপাবলিকানদের ৯০ শতাংশ তার ওপর আস্থা রাখলেও মাগা-বিরোধী রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন কমে প্রতি ১০ জনে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের বড় একটি অংশও ট্রাম্পকে বিচারবুদ্ধি, মেজাজ এবং সহানুভূতির ক্ষেত্রে ঘাটতিযুক্ত হিসেবে দেখছেন।

সূত্র: ফক্স নিউজ

/এমএকে/